জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকায় হাসপাতাল ভাঙচুর

আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ০৩:০১
ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক না থাকায় এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেছে। বুধবার রাতে এ হামলা চালানো হয়। পরে পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
 
জানা যায়, পৌর শহরের পাথরঘাটা মহল্লার বাকি বিল্লার মেয়ে লাবনী বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে থাকা কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা পায়নি মুমূর্ষু ওই মেয়ে। পরে নার্স এসে পাকস্থলী ওয়াশ করে তাকে প্রাথমিকভাবে বিষমুক্ত করেন।
 
ঘটনার দেড় ঘণ্টা পরেও কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার আক্তারুজ্জামানকে বহুবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। এতে তার স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাত ৮টার দিকে জরুরি বিভাগের চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে।
 
উপসহকারী মেডিকেল অফিসার হামিদুল ইসলাম পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানমকে খবর দেন। পরে তিনি পুলিশের এসআই আমিরুল ইসলাম ও সুভাষ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। এসময় রোগীর স্বজনরা তাকেও গালিগালাজ করেন। পরে মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
 
এদিকে দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত ৯টার দিকে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
 
ডাক্তার না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ডা. হালিমা খানম বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজন ১৫জন ডাক্তার সেখানে রয়েছে মাত্র দুইজন । দীর্ঘদিন ধরে ১৩টি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য থাকায় প্রতিনিয়ত রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে বিবাদে জড়াতে হচ্ছে । তাই ইচ্ছা থাকলেও পর্যাপ্ত সেবা দেয়া যাচ্ছে না।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি