গোদাগাড়ীতে প্রবীণকে ভিটাছাড়া করতে বাড়ি গুড়িয়ে দিল প্রভাবশালী

আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ১৬:৩৭
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অসহায় এক প্রবীণ নারীকে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা এবং ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই প্রবীণের নাম মদীনা বেগম। প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন, উপজেলার প্রেমতলি এলাকার ফরাদপুর গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে আব্দুল লতিফ মুকুল। এ অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও মানুষের দরবারে গিয়েও বিচার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন প্রবীণ ওই ব্যক্তির পরিবার।
 
এলাকাবাসী জানান, গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলি ফরাদপুর গ্রামে মদীনা বেগমের স্বামী স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে মারা যান। তারপর থেকে তিনি তার ৪ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। কয়েক দিন আগে মিস্ত্রী দিয়ে ঘর তৈরি কাজ করতে গেলে তার বাড়ির পাশে প্রভাবশালী আব্দুল লতিফ মুকুল মদীনা বেগমের বসত বাড়িতে গিয়ে মিস্ত্রীদের তাড়িয়ে দেয়। তাদের ঘর তৈরি করতে নিষেধ করে নিজ দখলে রাখার চেষ্টা করতে থাকে।
 
জমির মালিক মদীনা বেগম জানান, তাদের জমি ঘেঁষে পাশের জমির কিছু অংশ প্রভাবশালী মুকুল নামের এক ব্যক্তির। এসময় মদীনা বেগম সন্দেহ হলে জমি মাপার জন্য স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আমিন দিয়ে মাপেন। এরপর মদীনা বেগমের ছেলেরা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে। এ সময় মুকুল থানায় অভিযোগ করে একইসঙ্গে মদীনা বেগমের ছেলে মজিবুরও অভিযোগ করেন। এতে গত রবিবারে পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে উভয় পক্ষকে আগামী শনিবার থানায় বসে আপোস করার কথা জানায়। কিন্তু শনিবার আসার আগেই সোমবার স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী জনবলসহ লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে  দেয়।
 
উক্ত জমি ১৯৭১ সালে ২২৭ নম্বর খতিয়ানে ৭১ নম্বর দাগে মাঠ খসড়ায় মদীনা বেগমের নামে অন্তর্ভূক্ত হয়। পরে বাদল বাদী হয়ে মামলা করলে মহামান্য আদালত দুটি রেকর্ড মদীনা বেগমের নামে দেন। পরে সর্বশেষ আর এস রেকর্ড মূলে মুকুলের বাবা রুস্তম আলীর নামে ৭১(২) নং  দাগে হয়। কিন্তু রেকর্ডে একটা দলিলে একটা থেকে দুটি পরিবারের মাঝে ঝামেলা লেগেই থাকে। এর পূর্বে ৩ বার স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েও ঝমেলা  মেটেনি। পরে ওই জমির ওপর একটি মামলা দায়ের করেন উভয় পক্ষ আদালত তা আমলে নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর  ২০১২ ও ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে দুটি দলিলে অভিযোগ বাতিল করে বাদিপক্ষ মদীনা বেগমের পক্ষে রায় দেয় আদালত। তারপরেও ওই জমি দখলের জন্য মুকুল বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকিসহ বাড়ি দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
 
গত সোমবার বাদল তার দলবল নিয়ে ওই ঘর বাড়ি ভেঙ্গে দখল করতে আসে। ওই ঘটনায় প্রেমতলি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মদীনা বেগম। মদীনা বেগমের পরিবার প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।
 
এ বিষয়ে প্রেমতলি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পরিদর্শক আবু বাক্কার বলেন, ১৫ দিন আগে উভয় পক্ষ দুটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় বসে একটা সমাধান করার জন্য আগামী শনিবার বসার কথা ছিলো। কিন্তু তার আগেই বাড়ি ভাংচুর করবে আমরা বুঝতে পারিনি। মদীনা বেগমের বাড়ি ভাংচুর করাটা মুকুলের ঠিক হয়নি। আগামী শনিবার উভয়ের পক্ষের কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু