কাঁচপুর শহীদ মিনারের জায়গায় ইট বালুর ব্যবসা

আপডেট : ২৭ মে ২০১৮, ২০:২৫
নারায়নগঞ্জে শহীদ মিনারের সামনের জায়গা দখল করে দোকানপাট বসিয়ে, ইটেরকণা ও বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাইওয়ে থানা সংলগ্ন শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটছে। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা না করায় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। কাঁচপুর হাইওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসন ও এ সকল অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
 
গতকাল শনিবার কাঁচপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভাউন্ডারী সঙ্গে শহীদ মিনারের সামনে ও একাংশ দখল করে ইটের কণা ও বালু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। উত্তরপাশের জায়গাটি দখল করে স্থানীয় শাহা আলম মেম্বারের আত্মীয় মোসলেম মিয়া ও কাঁচপুর বেহাকৈর এলাকার বাসিন্দা সুধির বাবু চা-পান-সিগারেটের দোকান করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ পাশের কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের মালিকানাধীন খাবার হোটেল ফাস্ট ফুড ও চায়ের দোকান থেকে মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত মাসে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
 
কাঁচপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শহীদ মিনারের সামনের জায়গাটি দখল করে যেভাবে ব্যবসা করা হচ্ছে তাতে শহীদ মিনারটিকে অবমাননা করা হবে। এটা রক্ষা করার দায়িত্ব সবার।
 
কাঁচপুর সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীনতা পেয়েছি। শহীদদের স্বরণ করার জন্য প্রতি বৎসর শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকি আমরা। সেই শহীদ মিনারের অবমাননা আমাদের জাতির জন্য কলঙ্কজনক।
 
সেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, শহীদ মিনারের সামনে সকল ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ সকল অবৈধ প্রতিষ্ঠান অপসারণ করে শহীদ মিনারটিকে যথাযথভাবে সম্মান করার জন্য ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
 
শহীদ মিনার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব সেলিম হক রুমি বলেন, আশপাশের এলাকায় কোন শহীদ মিনার নেই। এলাকাবাসীর সুবিধার্থে এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর শহীদ মিনারটিতে কয়েক হাজার লোক শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন। সম্প্রতি শহীদ মিনারের সামনের ও আশেপাশের জায়গা দখল ও পরিবেশ নোংরা করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।
 
কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর বলেন, শহীদ মিনারকে সম্মান দেখানো দলমত নির্বিশেষে সকলের দায়িত্ব। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক আলী রেজা বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পূর্বে আমাদের দুটি দোকান ছিল। উচ্ছেদের পর এখন কোনো দোকান আমাদের নেই। আমাদের নাম ব্যবহার করে হয়তো কেউ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। 
 
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীনুর ইসলাম বলেন, শহীদ মিনারের সামনে থেকে অবৈধ দখলদারদের খুব শিগগির উচ্ছেদ করা হবে। 
 
নারায়ণগঞ্জ ৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, শহীদ মিনারের অপবিত্রতা কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু