ফরিদপুরের সালথা-নগরকান্দা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দুই উপজেলার শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী ও সাধারণ মানুষকে।
জানা যায়, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সড়কটি। সালথা উপজেলা সদর থেকে নগরকান্দা উপজেলা সদর পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে এলজিইডি। নির্মাণের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবত এ সড়কের সংস্কার কাজ না করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কটির সালথা উপজেলা অংশে রয়েছে ১২ কিলোমিটার এবং নগরকান্দা উপজেলা অংশে রয়েছে ৩ কিলোমিটার। সড়কটির নগরকান্দা উপজেলা অংশের বেশিরভাগই খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। অপরদিকে সালথা উপজেলা অংশের প্রায় ৫ কিলোমিটার খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী নগরকান্দা এম এন একাডেমীর শিক্ষার্থী মাসুম জানায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় কাদার মধ্যে পড়ে জামা কাপড়, বই খাতা ভিজে যায়। মাসুম জানায়, বৃষ্টির কারনে খানাখন্দে পানি জমে থাকায় সড়ক দিয়ে ভ্যান বা অটো এখন কম চলাচল করে। বেশিরভাগ সময় হেঁটে স্কুলে যেতে হয়, এ কারনে সময়মতো স্কুলে যেতে পারি না।
ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী এনজিও কর্মী আয়শা আক্তার জানান, সড়কটি দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এই সড়কের বেহাল দশার কারনে ঠিকমত সবার বাড়িতে যেতে পারি না। ঋনের টাকা আদায়েও সমস্যা হচ্ছে।
সড়কের এ বেহাল দশার কারনে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ। প্রতিদিন এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিভিন্ন হাট বাজারে নিতে এ সড়কটি প্রধান ভরসা। মাঝারদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ শেখ জানান, কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে খুব সমস্যা হয়। খানাখন্দের কারনে ভ্যান বা নসিমন যেতে চায় না। গেলেও ভাড়া বেশি দিতে হয়। এতে আমাদের লোকসান হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নগরকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান জানান, সড়কটির সংস্কার কাজের জন্য প্রধান কার্যালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
