বাঘা সীমান্তে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

আপডেট : ৩০ মে ২০১৮, ২০:২৮
দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর গা ঢাকা দিয়েছে বাঘা সীমান্ত এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। সীমান্ত এলাকার ৬টি গ্রামে প্রায় দেড় শতাধিক চোরাকারবারি থাকলেও আলোচনায় রয়েছে অর্ধ শতাধিক। এর মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শীর্ষ পর্যায় ২১ জনের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। যাদের কাউকেই অদ্যাবধি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে জনমনে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 
 
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সফল করতে ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বাঘা সীমান্ত এলাকার-আলাপুর, কিশোরপুর, মহদিপুর, পাকুড়িয়া, হেলালপুর ও মীরগঞ্জ এই ছয়টি গ্রাম থেকে প্রায় দেড় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন অর্ধ শতাধিক। তবে গডফাদার হিসেবে রয়েছে ২১ জনের নাম। যারা মূলত বিভিন্ন ধরনের লোকজন দিয়ে মাদক কেনা-বেচা করে থাকে। এইসব গডফাদারদের তালিকায় পারভীন ও মীনা নামের দুই নারীসহ একই পরিবারের তিন ভাই ব্যাপক ভাবে আলোচিত। এর মধ্যে এক ভাই কালাম মোল্লা আন্তঃজেলা চোরাকারবারিদের গডফাদার ও বাঘা সীমান্ত এলাকার মাদক সম্রাট হিসাবে পরিচিত। তার নামে বাঘা থানায় অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক চোরাচালান মামলা। 
 
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাঘা সীমান্ত এলাকার কয়েকটি গ্রামের মধ্যে চোরাচালান ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য মীরগঞ্জ ও কিশোরপুর। এই দুই গ্রাম থেকে রাজশাহী, নাটোর, ঈশ্বরদী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের (হাইওয়ে) সরাসরি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এই দুই গ্রামে তৈরি হয়েছে একাধিক চোরাচালান সিন্ডিকেট। যাদের কাজ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ফেন্সিডিল, হিরোইন, মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট এনে যুব-সমাজকে ধবংস করাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা। 
 
সূত্র মতে, মীরগঞ্জ এলাকা থেকে ২৫ জন চোরাকারবারির তালিকা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এরা দীর্ঘ দিন থেকে ফেন্সিডিল ও হিরোইন ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। এদের মধ্যে চারঘাট-বাঘা ও পার্শ্ববর্তী লালপুর-সহ বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে ১৮ জনের নামে। যারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘকাল ধরে চোরাচালান বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে একই পরিবার থেকে রয়েছে-সামাদ মোল্লা, কালাম মোল্লা ও ইদ্রিশ মোল্লা। এ ছাড়াও ওই গ্রামে আরও যারা চোরাকারবারি রয়েছে তার মধ্যে সাহাবুল, ট্যাংরা, কুদ্দুস,কাশেম, তজলু, দুলাল হোসেন বজলু, আফজাল, জয়নাল, মোকারম, রিপন, রাকিবুল, মোস্তফা, গিয়াস, হাফিজুল, কুদ্দুস দবির ও খালেক উল্লেখযোগ্য। এদের প্রত্যেকের নামে বাঘা-চারঘাট, লালপুর ও ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। 
 
অপরদিকে মীরগঞ্জ গ্রামের পূর্ব দক্ষিণ কর্নারে অবস্থিত, কিশোরপুর, আলাইপুর, হরিরামপুর ও পাকুড়িয়া এলাকাতেও রয়েছে প্রায় শতাধিক চোরাকারবারি। এই গ্রাম তিনটি প্রধান (হাইওয়ে) রাস্তা থেকে একটু ভেতরে হওয়ায় এখানে মাদক সেবনকারীদের অবাধ আসা-যাওয়া চলে। ওই তিন গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন অত্র অঞ্চলে মোটরসাইকেল নিয়ে আসা ফেনসিডিল সেবনকারীর সংখ্যা প্রায় শতাধিক। তাদের দেয়া তথ্য মতে, এই গ্রামগুলোতে যারা প্রকাশ্যেই ফেনসিডিল ব্যবসা করছে তাদের মধ্যে রয়েছে- মাদক সম্রাট জার্জিস আহম্মেদ, বাদশা, আনিছুর, মিঠুন, গাজী, শহিদুল, নাজমুল, ঝুন্টু, পান্না, রান্টু, ভুলা, হান্নান, পিয়ারুল, সাইফুল, সামাদ, দুলাল, রুবেল, রিয়াল, বারী, তছিকুল, পলাশ ও আইনাল। এদের নামে বাঘা থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক চোরাচালান মামলা রয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে এ সমস্ত চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বলার কোন মানুষ নেই এলাকায়। 
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোরপুর, আলাইপুর ও হরিরামপুর গ্রামের দু’জন স্কুল শিক্ষকসহ একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই তিনটি গ্রামে চলতি রমজানের এক সপ্তাহ পূর্বেও প্রকাশ্যেই ফেনসিডিল ব্যবসা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তবে রোজার শুরু থেকে দেশব্যাপী মাদক অভিযান এবং চোরাকারবারিদের ক্রস ফায়ার  শুরু হওয়ার পর তারা নিজেদের আত্মগোপনে রেখেছেন। এদের মধ্যে দু’একজন  ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেন। 
 
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল হাসান জানান, চোরাকারবারিদের সাথে আমার কোন আপোশ নেই। আমি এই থানায় নতুন যোগদানের পর চোরাকারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করাসহ চলতি রমজানে ৮টি মাদকের মামলা দিয়েছি। তাঁর মতে, যাদের নাম সংগ্রহ হয়েছে তারা প্রত্যেকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা। 
 
তিনি আরও বলেন, এই থানায় ২১ জন শীর্ষ চোরাকারবারি রয়েছে। যাদের প্রতিনিয়ত খুঁজছে পুলিশ। তিনি এ সমস্ত চোরাকারবারিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবেন বলে জানান। 
 
ইত্তেফাক/এমআই