টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য কাগমারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে স্কুলের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। ফলে স্কুলের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার কাগমারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় বাড়ি ও দোকান ঘর নির্মাণ করে দখল নিয়েছেন স্থানীয় ফেমেলি তালুকদারসহ একই পরিবারের আনছার আলী ভূইয়া, আব্দুল কাদের ভূইয়া শফিকুল ইসলাম ভূইয়া ও আব্দুল মজিদ ভূইয়া। স্কুলের পক্ষ থেকে বারবার জায়গা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। এদিকে সারাদেশের ন্যায় কাগমারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও সরকারিভাবে দেয়াল নির্মাণ কাজ বরাদ্দ হয়। ফলে টেন্ডারের মাধ্যমে স্কুলের উন্নয়নে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ ও গেটের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু জায়গা দখলে থাকা ফেমেলি তালুকদার ও তার আত্মীয়রা জমি ছেড়ে না দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজনকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উন্নয়ন কাজ বন্ধ করতে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি কাগমারীপাড়া বাজার সমিতি ভূয়া নাম ব্যবহার করে সভাপতি সেজে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। এরপ্রেক্ষিতে স্কুলের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি হাইকোর্টের রিটের কপি পেয়ে স্কুলের বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ। এদিকে স্কুলের এমন উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া কোমলমতি শিশু, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন।
কাগমারীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ, মোহাম্মদ আজাদ, লুত্ফর রহমান মিন্টুসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের জমি অবৈধভাবে দখল করে খাচ্ছে এখন জমি ছেড়ে দিতে কষ্ট হচ্ছে। এলাকার লোকজন মামলার ভয়ে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না। দখলকারীরা বিএনপি দল করায় আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কাজে বাধাঁগ্রস্থ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আলীম জানান, বর্তমানে স্কুলে দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নামে যে ব্যক্তি কাগমারীপাড়া বাজার সমিতির সভাপতি হিসেবে হাইকোর্টে রিট করেছেন স্কুলের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করতে সে বাজার সমিতির কিছুই না। এছাড়া বাজার সমিতি নামের কোন সমিতিই নেই। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভূয়া একজন সভাপতি। তিনি হাইকোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্কুলের উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্ত করেছেন।
কাগমারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিল আরা আফরুজ জানান, সারাদেশের ন্যায় এই বিদ্যালয়েও উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ পাস হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখলকারীরা স্কুলের জায়গা ছেড়ে না দিয়ে উন্নয়ন কাজ বন্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, আইনজীবির মাধ্যমে একটি কপি পেয়ে স্কুলের দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞ সরকারি কৌশলির মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএম
