দৈনিক ইত্তৈফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, মৎস্য খাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। দেশের মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের প্রাণীজ আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মাছ থেকে। একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে মাছের কোন বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত 'মৎস্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষনের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশে মৎস্য সম্পদের পর্যাপ্ততা ছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে দেশের মৎস্য খাত হুমকির সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে উঠে এসে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ চর্তুথ। বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলো ফিরে এসেছে এখন খাবার টেবিলে। যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। মৎস্য খাতের এ অর্জনে অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
IMG0
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলোর সুবিধা যেন দেশের সকল স্তরের মানুষ পেতে পারে এই লক্ষ্যে গণমাধ্যমগুলোর কাজ করতে হবে। কৃষি সাংবাদিকতার আওতায় মৎস্য গবেষণার সংবাদগুলোকে গুরুত্বসহকারে প্রচার করতে হবে। যা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
তাসমিমা হোসেন আরো বলেন, মন্ত্রী-এমপিরাই শুধু দেশ চালান না। সকলের প্রচেষ্টাই দেশ চলে। দেশের মৎস সম্পদ উন্নয়নে, বিলুপ্ত মাছ উৎপাদনে ও পুষ্টি চাহিদা মেটানোতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মৎস বিজ্ঞানীর অপরিসীম ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মাছে-ভাতে বাঙালির এ চাহিদা পূরণে দিন-রাত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটটি কাজ করে যাচ্ছে। মাছের প্রতি আগ্রহ থেকেই ময়মনসিংহের এ প্রতিষ্ঠানে আসার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে মাছসহ নানা রকম কার্যক্রম করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক জাহানের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অধ্যাপক রেবেকা ইয়াসমিন। প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম উপস্থাপনা করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা. ও পরিকল্পনা) ড. মো. নুরুল্লাহ।
আরো বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশা. ও অর্থ) ড. মো. খলিলুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল করিম খোকন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মোট ৬৩ জন প্রতিনিধি প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অনুষ্ঠানের সভাপতি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট একমাত্র জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইনস্টিটিউট থেকে ইতোমধ্যে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৬০টি লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আশির দশক থেকে মাছের খাদ্য ও পুষ্টিমান নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে আসছে।
প্রশিক্ষনের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন চলমান গবেষণা কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
