সরিষাবাড়িতে দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

আপডেট : ০১ জুন ২০১৮, ১০:২৭
জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনার নরপুর এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫জন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইফতারের আগ মুহূর্তে ঘটে।
 
নিহতের নাম- জাহিদুল ইসলাম (২৫)। তিনি সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলামের ছেলে।
 
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ, নজরুল ইসলাম, বাংলার বাবু, তোফাজ্জল মেলেটারি, সুরুজ্জামান, মিল্টন, উমর ফারুক, আরিফ, জামাত আলীসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত যমুনা নদী থেকে ড্রেজার মেশিনে অবৈধ বালু উত্তোলন করে আসছিল। পিংনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলামের সেখানে জমি থাকায় তিনি বালু উত্তোলনের বাঁধা দেন। ফলে ওই চক্রের সাথে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল ইসলামের মাঝে চরম বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হলে দু'গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন সন্ধ্যায় পিংনা উচ্চবিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান এমপির সৌজন্যে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।
 
সেই ইফতার মাহফিলে যোগদানের জন্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলামের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী জাহিদুল ইসলামসহ বেশ ক'জন কর্মী ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পথিমধ্যে বালু খেকো চক্রটি অতর্কিত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এতে জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে অপর পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম (৬০), আব্দুল আউয়াল (৬০), ইনতাহার বেগম (৫০), রোজিনা বেগম (৩০), গোলাম মোস্তফা (৫০), ঝর্ণা বেগম (৫০), সুরুজ্জামান (৪৫), গেন্দা মিয়া (৪৩) সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য সরিষাবাড়ি, টাঙ্গাইল ও ভুয়াপুর হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতদের মধ্যে ৩জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানা গেছে।
 
এ ব্যাপারে সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান বলেন, পারিবারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। নুরুল ইসলামের লোকজন সন্ধ্যায় ইফতার মাহফিলে যোগদান কালে তাদের ওপর হামলা করলে এক জনের মৃত্যু হয় বলে জানান। বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
 
এ ব্যাপারে স্থানীয় তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জোয়াহেরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ি থানার ওসি রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখনও মামলা দায়ের হয়নি তবে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস