মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মুরগির খামারের চারপাশে বন্যপশু মারার ফাঁদে বিদ্যুতায়িত তারে স্পর্শে এক স্কুলছাত্র মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশীর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল কাদির সহ স্থানীয়রা জানান, বৌলাশীর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে রুমান মিয়া প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত তার মুরগির ফার্মের চতুর্দিকে তারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ করে রাখতেন। বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের পার্শ্ববর্তী আহাদ মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (৭) আম কুড়াতে গিয়ে ওই তারের বেড়ায় বিদ্যুৎস্পর্শে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত সাগর মিয়া বৌলাশীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফার্মের মালিক রুমান মিয়া সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বন্যপশুর আক্রমণের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি তার মুরগির ফার্মের চতুর্দিকে তারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখতেন। এদিকে নিহতের মামা সাদেক মিয়া ঘটনাটিকে ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অপমৃত্যুর বর্ণনা অবহিত করেন। এতে ঝড়ে ছিঁড়ে পরা বিদ্যুতের তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে সাগরের মৃত্যু হয় উল্লেখ করেন তিনি।
জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শিবুলাল বসু বলেন, বৌলাশীর গ্রামে ঝড়ে বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোন অভিযোগ বা তথ্য নেই।
ঘটনার তদন্তকারী অফিসার শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, ওই ঘটনায় আমরা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসি। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন মামলা মোকদ্দমায় না জড়িয়ে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদবির করেন। এ বিষয়ে নিহতের মামা থানায় অপমৃত্যুর কথা অবহিত করেন তবে এ ব্যাপারে কোন মামলা হয়নি।
ইত্তেফাক/এসএস
