নান্দাইল-ঢাকা আঞ্চলিক সড়ক খানাখন্দে ভরা

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৮, ০৫:০৬
নান্দাইল উপজেলায় নান্দাইল-হোসেনপুর ভায়া ঢাকা আঞ্চলিক সড়কটি যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে চলাচলকারীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক জুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যানবাহন উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যানবাহন চলাচল করে প্রতিদিন। বিশেষ করে আচারগাঁও ইউনিয়নে জামতলা বাজার এলাকায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। তারপরও সড়কটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কারের অভাবে কার্পেটিং ও পাথরের খোয়া উঠে গিয়ে এই গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পথচারীসহ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
 
জানা যায়, গত তিন বছর আগে খানাখন্দে ভরা এই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতেই এসব কার্পেটিং উঠে গিয়ে আবারো সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
 
জলসিঁড়ি পরিবহনের চালক রুকন উদ্দিন জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে নান্দাইল হোসেনপুর রাস্তার এই দুরবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় এই দুরবস্থা চরমে পৌঁছেছে। মাঝে-মধ্যেই রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকছে যানবাহন। এ কারণে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। সড়কটির বেশির ভাগ অংশের পিচ কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। দেখলে মনে হয় এ যেন সড়ক নয়, মরণ ফাঁদ। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের এসব খানাখন্দ পানিতে ডুবে গিয়ে বিঘ্ন ঘটে যান চলাচলে। এভাবে বিপদের আশঙ্কা নিয়েই যান চলাচল করছে এই সড়কে।
 
আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া কাইয়ুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে সংস্কার করা হলো এই সড়ক, অথচ কয়েক মাস না যেতেই এমন বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হলো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
 
নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া জানান, নান্দাইল থেকে হোসেনপুর হয়ে ঢাকা যাওয়ার সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি আগামী অর্থ বছরে সেটি বাস্তবায়ন হবে। এ ছাড়া, সাময়িক সংস্কারের জন্য একটি বাজেট পাঠানো হয়েছে। যা প্রক্রিয়াধীন আছে। এই বাজেট পাশ হলেই বর্ষার মধ্যেই সাময়িক সংস্কার করা সম্ভব হবে। এতে জনদুর্ভোগ অনেকটা কমবে।
 
ইত্তেফাক/কেআই