আওয়ামী লীগ আসন ধরে রাখতে চায় বিএনপি এগুচ্ছে কৌশলে

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৮, ১৫:৫৩
ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী হাওয়া ইতিমধ্যে বইতে শুরু করেছে। 
 
মধুখালী-বোয়ালমারী এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিনটি পৌরসভা এবং ২৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে ফরিদপুর-১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ উনিশ হাজার ৭৮৪ জন। এ আসনটিতে বরাবরই আওয়ামীলীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করে আসছে। ফরিদপুর-১ আসন আওয়ামী লীগের একটি নির্ধারিত দুর্গ বলেও পরিচিত। স্বাধীনতার আগে ও পরে সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেন। শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভোটারবিহীন নির্বাচনে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এমপি হন। আর ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী সিরাজুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন। কাজি সিরাজুল ইসলাম বিএনপিতে যোগদান করায় আসনটি শূন্য হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ার বিএনপির নেতা শাহ্ মো. আবু জাফর এমপি নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফাত হোসেনকে পরাজিত করে।
 
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান নৌকা প্রতীকে ১লাখ পাঁচ হাজারের বেশী ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী শাহ্ মো. আবু জাফরকে পরাজিত করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় পুণরায় এমপি নির্বাচিত হন। তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে মধুখালী বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা এই তিন উপজেলায় ১০ বছরে প্রায় সাড়ে সাতশ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তাবয়ন করেছেন। আরো প্রায় তিনশ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলমান। তাই বিজয়ের ধারা অব্যহত রাখতে চায় আওয়মী লীগ।
 
আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে নৌকার ভোট চেয়ে বিভিন্নভাবে প্রচারনায় রয়েছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবেন তাকে নিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা চায় আওয়ামী লীগ। 
 
এদিকে বিএনপির ২০ দলীয় জোট তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কৌশলে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন। তারা চাইছেন কোন কায়দায় আসনটি দখল করতে। রোজার মাসে বিএনপিকে সকল ইউনিয়নে ইফতার পার্টির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারনায়ও দেখা যাচ্ছে।
 
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান এমপি মো. আব্দুর রহমান, অবসর প্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. মঞ্জুর হোসেন, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি আবার বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সাবেক এমপি এবং আমিন জুয়েলার্সের মালিক কাজী সিরাজুল ইসলাম, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পদক মো. সিরাজুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেন, সাংবাদিক আরিফুর রহমান দোলন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. লিয়াকত হোসেন। 
 
অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মো. আবু জাফর, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের জাতীয় ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো.শরিফুল ইসলাম, ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্বাচিত সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।  
 
এদিকে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) এর দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মৃধা এপি প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা করতে দেখা যাচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু