চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়া এলাকায় মাদকাসক্ত ছেলে মো. সুমনের (২৬) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয়েছে পিতা মো. তাজুল ইসলাম (৭০)। রবিবার বিকাল ৪টায় ওই এলাকার কামিজ উদ্দিন বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাজুল ইসলামের ভাই সুলতান বেপারী জানান, হাজীগঞ্জ বাজার থেকে ঘর তৈরির জন্য কাঠ নিয়ে নৌকায় বাড়ি ফেরেন তাজুল ইসলাম। ওই সময় ছেলে সুমন একই বাড়ির শুকুর আলম নামে এক জনের সঙ্গে ঝাগড়ায় লিপ্ত ছিল। এক পর্যায়ে সুমন ধারালো দা নিয়ে শুকুকে তাড়া করে। শুকুকে কোপাতে না পেরে নৌকাতে থাকা বাবা তাজুল ইসলামকে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
সুলতান অভিযোগ করে আরো বলেন, ওইসময় পাষণ্ড ছেলের মা ফিরোজা বেগম উপস্থিত থাকলেও কোন ভূমিকা নিতে পারেননি।
নৌকার আরোহী মান্নান মিয়া জানান, কাঠগুলো বাড়িতে তোলা শেষ পর্যায়ে ছিল। তাজুল ইসলাম নৌকাটা পরিষ্কার করছিলেন। হঠাৎ এসে ছেলে সুমন তার বাবাকে কোপাতে শুরু করে। এক কোপে পা পড়ে যায়। পরের কোপে পেটের ঝুলি বেরিয়ে যায়। তখন বাবা তাজুল ইসলাম বাঁচার জন্য ছেলেকে যত টাকা লাগবে প্রতিদিন তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে থাকলেও পাষণ্ড ছেলের কাছ থেকে রেহাই পাননি হতভাগ্য বাবা তাজুল ইসলাম।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের কন্যা হালিমা বেগম ও স্থানীয় লোকজন জানান, সুমন মাদক ব্যবসায়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ভুট্টো কমিশনারের সহযোগী। ভুট্টো কমিশনারের বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে সে পলাতক। সুমনকেও একাধিকবার থানা পুলিশের কাছে দিয়েছি। সে জামিনে এসে আবার মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে এসেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে ছেলেকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
