আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার মাগুরায় প্রদর্শন করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার লম্বা জার্মানির পতাকা। সকাল ৯টায় মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল মাঠে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। এসময় ঢাকার জার্মানি দূতাবাসের কূটনীতিক কার্নে উইজোরা এবং কালচারাল ও এডুকেশন অফিসার তামারা কবিরসহ সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে উন্মাদনার পাশাপাশি সর্বত্র উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা জার্মানির পতাকা তৈরিকারী মাগুরার আমজাদ হোসেন এবার আরো দুই কিলোমিটার বাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার লম্বা পতাকা তৈরি করেছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আমজাদ হোসেন ১০ সন্তানের বাবা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ৩০ শতক জমি বিক্রি করে সাড়ে তিন কি.মি. লম্বা জার্মানির পতাকা তৈরি করে সাড়া ফেলে দেন। মাগুরা বীর মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়ামে সেই পতাকা প্রদর্শন করা হয়। তাকে জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্যপদ প্রদান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এবার ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে মাগুরার আমজাদ হোসেন তার পতাকার মাপ আরো দুই কি.মি. বাড়িয়েছেন। এর জন্য তার খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা।
আজ মঙ্গলবার মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল মাঠে এই পতাকা প্রদর্শন করা হয়। এসময় ঢাকার জার্মানি দূতাবাসের কূটনীতিক কার্নে উইজোরা এবং কালচারাল ও এডুকেশন অফিসার তামারা কবির, মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, স্থানীয় চাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান, পতাকা তৈরিকারী আমজাদ হোসেন সহ সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনের সময় সমস্ত মাঠ পতাকাটিতে ঢেকে যায়। ঢাকার জার্মান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুল মাঠে এসে পৌঁছালে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। তারা এত লম্বা জার্মানির পতাকা দেখে অভিভূত হন। এজন্য আমজাদকে অভিনন্দন জানান।
এবিষয়ে কূটনীতিক কার্নে উইজোরা বলেন, আমজাদ হোসেন এতো বড় পতাকা তৈরি করেছেন তাতে তিনি অভিভূত। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।
জার্মান ফ্যান গ্রুপের কর্মকর্তা জিরাকন আলী জানান, জার্মান ফ্যান গ্রুপের সদস্য রয়েছে ৪১ হাজার।
পতাকা তৈরিকারী আমজাদ হোসেন জানান, তিনি ভালো বেসে পতাকা তৈরি করেছেন। গতবার সাড়ে তিন কি.মি. পতাকা তৈরি করার সময় তার খরচ হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকা। এই টাকা জমি বিক্রি করে জোগাড় করেছিলেন এবার আরো দুই কি.মি. বাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার করেছেন। এবার খরচ হয়েছে আরো দেড় লাখ টাকা।
IMG0
উল্লেখ্য, আমজাদ হোসেন পেশায় একজন কৃষক। জার্মানির বিটি হোমিও ওষুধ খেয়ে তার অসুখ সারায় তিনি জার্মানির ভক্ত হয়ে যান।
ইত্তেফাক/এসএস
