কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছোঁড়া রাবার বুলেটের স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত স্কুলছাত্র রাসেল মিয়ার (১৪) ডান চোখটি অন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ এক মাস ঢাকা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অবশেষে রাসেল মিয়া সোমবার বিকালে পরিবারের কাছে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, রাসেল মিয়ার ডান চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। এক চোখে না দেখায় রাসেলসহ তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সবাই ভেঙ্গে পড়েছে। রাসেল বাড়িতে আসায় প্রতিবেশীসহ তার সহপাঠীরা তাকে দেখতে আসে। রাসেলের এক চোখ অন্ধ হওয়ায় উপস্থিত সবারে মন খারাপ হয়ে যায়।
রাসেলের দিন মজুর বাবা আব্দুল হানিফ জানান, দীর্ঘ এক মাস ছেলের চিকিৎসার জন্য ধার-দেনা ও গরু-ছাগল বিক্রি এবং শেষ সম্বল ত্রিশ শতক জমি বন্ধকের টাকাসহ মোট দুই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এত কিছুর পরেও ছেলের ডান চোখের আলো ফেরাতে পারেননি ডাক্তাররা। রাসেল ডান চোখে না দেখায় সবার অজান্তে অঝোরে কেঁদে বুক ভাসিয়েছে। ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা না থাকায় আমরা সবাই তাকে নিয়ে খুব মানসিক কষ্টে আছি।
তিনি আরও জানান, আমরা গরীব মানুষ, রাসেলের চিকিৎসায় প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনো অনেক দেনাদার আমার কাছে টাকা পাবে। যদি সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতা করেন, শেষ চেষ্ঠা ভারতে গিয়ে ছেলের নষ্ট হওয়া ডান চোখটির চিকিৎসা করতাম বাহে!
গত ৪ মে সকালে রাসেলকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩৬ নং রুমের ৯ নং বেডে ডা. অধ্যাপক মোশারফ হোসেনের অধীনে রাসেল ভর্তি হয়েছিল।
ঢাকা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে পরিচালক ড : দীপক চন্দ্র নাগের বরাত দিয়ে রাসেলের বড় ভাই রুবেল ইসলাম জানান, ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো রাসেলের ডান চোখে দুইটি স্প্রিন্টের আঘাতের দাগ আছে। ডাক্তাররা সব ধরনের চেষ্টা করেও রাসেলের ডান চোখের দৃষ্টি শক্তি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন।
রাসেল মিয়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার ও পরে ব্যাটালিয়ান কমান্ডার পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্টিত হয়েছে। বৈঠকে বিজিবি এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায়। দুই বৈঠকেই ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি।
উল্লেখ্য,গত ৩০ এপ্রিল বিকালে ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩০ এর সাব পিলার ৮ এর পাশে বাংলাদেশ সীমান্তের ২০ মিটার অভ্যন্তরে গবাদী পশুর ঘাস সংগ্রহ করতে যায় রাসেল মিয়া, শাকিল, ফরহাদ, আলিমুদ্দিন নামে কয়েকজন কিশোর। এক পর্যায়ে ভারতীয় ৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে অন্যরা অক্ষত থাকলেও স্কুল ছাত্র রাসেল মিয়ার মুখমন্ডলে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
