পরিসংখ্যানে রাশিয়া বিশ্বকাপের স্কোয়াড

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৮, ২০:০২
রাশিয়া বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। আর নয় দিন পরই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই লড়াই। ইতোমধ্যে অংশ নিতে যাওয়া ৩২টি দলই তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। সবক’টি দলের ঘোষিত স্কোয়াড বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেয়া এই পরিসংখ্যা পাঠকদের জন্য তুলে ধলা হলো-
 
আগেও বিশ্বকাপ খেলেছেন যারা 
রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য ৩২টি দলের ঘোষিত চূড়ান্ত স্কোয়াডে আছেন ৭৩৬ ফুটবলার। তবে এদের মধ্যে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছেন এমন সংখ্যাটাই বেশি। এর আগেও বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে ২০০ জন খেলোয়াড়ের। ব্রাজিলে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সবশেষ আসরে খেলেছেন ১৮৬ জন, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলেছেন ৬১ জন, ২০০৬ সালে জার্মান বিশ্বকাপে খেলেছেন ২১ জন এবং ২০০২ সালে কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপেও খেলেছেন একজন। কোরিয়া জাপানে খেলেছেন মেক্সিকোর রাফা মারকুয়েজ। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছেন তিনি। এর আগে পাঁচটি করে আসরে খেলার অভিজ্ঞতা আছে কেবল মেক্সিকোর আরেক ফুটবলার অ্যান্টনিও কাবারজাল, জার্মানির লুথার মাথেউস ও ইতালির জিয়ানলুইজি বুফনের। 
 
স্কোয়াডে ঘরোয়া লিগের প্রাধান্য 
ইংল্যান্ডের স্কোয়াডের সবাই তাদের জাতীয় লিগের। এছাড়া রাশিয়ার চূড়ান্ত স্কোয়াডের ২১ জন এবং সৌদি আরবের ২০ জন আছেন ঘরোয়া লিগের। অপরদিকে সেনেগাল ও সুইডেন তাদের চূড়ান্ত দলে ঘরোয়া লিগ থেকে কাউকে দলে নেয়নি। আর বেলজিয়াম, আইসল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও সুইডেনের চূড়ান্ত তাদের ঘরোয়া লিগ থেকে রয়েছেন একজন করে ফুটবলার। 
 
আগেও বিশ্বকাপে গোল আছে যাদের
রাশিয়ায় খেলার জন্য দলে থাকা ফুটবলারদের মধ্যে এর আগেও বিশ্বকাপে গোল করেছেন ৫৩ জন। যার মধ্যে জার্মানির থমাস মুলার করেছেন সর্বোচ্চ ১০ গোল। এছাড়া কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ ৬টি, অস্ট্রেলিয়ার টিম কাহিল, আর্জেন্টিনার গঞ্জালো হিগুয়েইন ও লিওনেল মেসি এবং উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ ৫টি করে গোল করেছেন বিশ্বকাপে। 
IMG0
সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় 
মিশরের এসাম এল-হাদারি সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এমনকি বিশ্বকাপে কোচের দায়িত্ব পালন করা তিনজন সবচেয়ে বেশি বয়সী এসামের চেয়ে বয়সে ছোট। তারা হলেন সেনেগালের কোচ অ্যালিও সিজে (৪২), সার্বিয়ার ম্যালাডেন ক্র্যাস্টাজেক (সার্বিয়া) ও বেলজিয়ামের রবার্তো মার্টিনেজ (৪৪)। ৩৯ বছর বয়সী মিশরের গোলরক্ষক ও মেক্সিকোর রাফা মারকুয়েজ আছেন বয়সের দিক থেকে দ্বিতীয় সারিতে। 
IMG1
সবচেয়ে বেশি ও কম বয়সী কোচ
রাশিয়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ও কম বয়সী কোচের বয়সের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ২৯ বছর। উরুগুয়ে দলের কোচের দায়িত্বে আছেন ৭১ বছর বয়সী অস্কার তাবারেজ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেশি বয়সী কোচ তিনি। অপরদিকে সেনেগালের কোচ অ্যালিও সিজের বয়স ৪২ বছর। অর্থাৎ তাবারেজ ডাগ আউটে ক্যারিয়ার শুরুর মাত্র কয়েক বছর পর সিজের জন্ম।  
IMG2
সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়
অস্ট্রেলিয়ার ড্যানিয়েল আরজানি সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে আছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের দলে। তার বয়স ১৯ বছর পাঁচ মাস। অবশ্য এর চেয়ে অনেক কম বয়সে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড আছে বিশ্বকাপে। নাইজেরিয়ার ফেমি অপাবুনমি ১৭ বছর দুই মাস বয়সে ২০০২ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড দলের হয়ে ১৭ বছর তিন মাস বয়সে খেলেছেন থিও ওয়ালকট, ডেনমার্কের ক্রিস্টিয়ান এরিকসন ১৮ বছর চার মাস বয়সে খেলেছেন ২০১০ সালে এবং ক্যামেরুনের ফ্যাব্রিক ওলিঙ্গা ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন বিশ্বকাপে। 
 
বিশ্বকাপে ইউরোপের লিগ সমূহের প্রতিনিধিত্ব
ইউরোপের ক্লাবগুলোর মধ্যে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটির সর্বোচ্চ ১৬ জন ফুটবলার খেলছেন বিশ্বকাপে। এরপর আছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের ১৫ জন, বার্সেলোনার ১৪জন, আরেক ইংলিশ ক্লাব চেলসি ও ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইর ১২ জন করে ফুটবলার খেলছেন বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপ দলে থাকা মোট ফুটবলারের ৭৫ শতাংশই ইউরোপিয়ান ক্লাবে খেলেন। যার মধ্যে ইংলিশ লিগে সর্বোচ্চ ১২৪, স্প্যানিশ লিগে ৮১ ও জার্মান লিগে ৬৭ জন খেলছেন। 
 
এক যুগ পর বিশ্বকাপে 
এক যুগ পর ফের বিশ্বকাপ দলে খেলছেন এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা দুজন। তারা হলেন কোস্টারিকার রানদাল আজোফেইফা এবং পোল্যান্ডের লুকাস ফ্যাবিয়ানস্কি। এর মধ্যে আজোফেইফা সেবার এক ম্যাচে সাবস্টিটিউট হিসেবে থাকলেও লুকাজ কোন ম্যাচ খেলেননি। 
IMG3
নেই জার্মানির শিরোপার নায়ক
ব্রাজিল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন জার্মান দলের শিরোপার নায়খ ছিলেন মারিও গোয়েৎসে। মাত্র ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে রাখা হয়নি রাশিয়া বিশ্বকাপের দলে। শুধু গোয়েৎসে নন, চ্যাম্পিয়ন দলের মাত্র নয়জনকে রাশিয়াগামী দলে রেখেছেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। অথচ ২০১০ সালে শিরোপা জয়ী দল থেকে ১৬ জনকে নিয়ে ২০১৪ সালে ব্রাজিল মিশনে গিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্তে দেল বক্স। 
 
ইত্তেফাক/কেআই