পুঠিয়ায় চিকিৎসকের অবহেলায় যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৮, ১৮:৪৬

রাজশাহীর পুঠিয়ায় চিকিৎকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সসহ কর্মচারীদের মারধর করে প্রায় ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় পৌনে ১২টা পর্যন্ত পুঠিয়া সদরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৃত রকি (২০) উপজেলার ভালুকগাছি ইউপির কৈপুকুরিয়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

রকির মামা শফিকুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ৮টায় রকি কৈপুকুরিয়া গ্রামের ফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কীটনাশক পান করে। পরে বিষয়টি নিজেই তার মাকে ফোনে জানায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

শফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করে বলেন, রকিকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় আঁধাঘন্টা পরও ডাক্তার কাছে আসেনি। এ সময় জরুরী বিভাগের দুই কর্মচারী রকিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। ওই অবস্থায় তারা রকিকে মৃত ঘোষণা করে।

রকির মামা মইদুল ইসলাম বলেন, যে সময় রকিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিলো তখন চিকিৎসা দিলে আমার ভাগনে বেঁচে যেত। চিকিৎসককে বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি চিকিৎসা দেননি।

এদিকে রকির মৃত্যুর সংবাদে বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেন। তারা চিকিৎসক ও নার্সসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহেদ, থানার ওসি সাকিল আহম্মেদ, সেকেন্ড অফিসার এসআই ইফতেখার আল আমিন, এসআই বজলুর রহমান প্রমুখ প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টার পর তাদের মুক্ত করেন।

অন্যদিকে রোগীর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্বরত চিকিৎসক কহিনুর খাতুন বলেন, রোগী নিয়ে আসার সময় অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রোগীকে হাসপাতারে আনতে দেরী হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইসও) সাইদুর রহমান বলেন, রোগীর স্বজনরা ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছে।

চিকিৎসা অবহেলার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির বিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনদের বুঝিয়ে চিকিৎসক-কর্মচারীদের উদ্ধার এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু