বিড়ি শিল্প রক্ষার জন্য চার দফা দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন কর্মসূচী ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় মহানগরীর খালিশপুর কাস্টমস অফিসের সামনে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা অঞ্চলের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে কয়েক হাজার বিড়ি শ্রমিক অংশ নিয়ে বিড়ি শিল্প রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা অঞ্চলের সভাপতি শহিদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, গোপাল বিড়ি শ্রমিক ইউনিউয়নের নেতা কাতিবুর রহমান, শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য তৈহিদুর রহমান, জোসনা বেগম, জোবায়ের হোসেন, সুমন বালা প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদেশি সিগারেট কোম্পানির শুল্ক কম ধরে দেশি বিড়ি শিল্প ধ্বংস করার জন্য বিড়ির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ধরা হয়েছে। তারা বৈষম্যমূলক এই শুল্ক নীতি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পরে খুলনা কাস্টমস কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর এ ব্যাপারে ৪ দফা সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে বিড়ির ট্যাক্স বেড়েছে ৬১ শতাংশ। সেখানে সিগারেটের বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ। দামি সিগারেটের মূল্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে স্তর ভেদে ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে। যা এখনো কার্যকর রয়েছে। মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির জন্য নিম্নস্তর মূল্য ৩৫ টাকা করা হলেও এখনো পর্যন্ত তারা সহায়ক শক্তি ব্যবহার করে ২৭ টাকা মূল্যে বিক্রি করছে। যার ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিগত ১৫ বছর ধরে বিড়ি শিল্পের প্রতি এই বৈষম্যনীতির কারণে এ শিল্প আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
এ শিল্প আর থাকবে না জানতে পেরে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষ এখন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। অথচ আমাদের পাশের দেশ ভারতে বিড়িকে কুটির শিল্প ঘোষণা করা হয়েছে। সিগারেট যতদিন থাকবে, বিড়িও ততদিন থাকবে; ভারতের ন্যায় বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা ও প্রতি হাজারে শুল্ক ১৪ টাকা করতে হবে এবং বছরে ২০ লাখ শলাকার কম উৎপাদনকারী বিড়ি ফ্যাক্টরি থেকে শুল্ক নেয়া যাবে না।
ইত্তেফাক/নূহু
