জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন নিয়ে কুয়েতের অবস্থান নিয়ে বিরক্ত ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি এমনটা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও জামাতা জারেড কুশনার। কুয়েত- ভিত্তিক পত্রিকা আল রাই’য়ের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত সালিম আব্দুল্লাহ আল-জাবের আল-সাবাহর সঙ্গে দেখা করেন কুশনার। তাদের সাক্ষাতকালে আল-সাবাহর কাছে, নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন নিয়ে তার ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরক্তির কথা প্রকাশ করেন কুশনার।
এক মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আল রাই বুধবার বলেছে, সম্প্রতি ইসরাইল কর্তৃক দখলীকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে কুয়েত। কুশনার জানিয়েছেন, ওই প্রস্তাব নিয়ে বিরক্ত ট্রাম্প প্রশাসন।
গত মাসে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইল সংলগ্ন সীমান্তে বিক্ষোভরত অবস্থায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় শতাধিক ফিলিস্তিনি। ওই ঘটনার পর পশ্চিম তীরে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলে কুয়েত।
আল-সাবাহকে কুশনার বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে কুয়েতের অবস্থান মার্কিন কর্মকর্তা এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে আমেরিকার মিত্রদের সামনে ব্যক্তিগতভাবে তাকে লজ্জিত করেছে।
পাচ-মিনিট দীর্ঘ বৈঠকটিতে কুশনার আরো জানিয়েছেন যে, কুয়েতের প্রস্তাব উত্থাপনের আগেই তিনি সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে গাজার ঘটনাটি নিয়ে দেশ দু’টির একটি যৌথ বিবৃতি দেয়া নিয়ে কাজ করছিলেন।
কুশনার আরো জানান, তিনি চান যে, কুয়েত চলমান সহিংসতায় তাদের কেবল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাই পালন করুক। যদিও তাদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অনেক পক্ষের আপত্তি রয়েছে।
এছাড়া, হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার দিকে জোর দেন কুশনার। তবে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েতের মধ্যকার সম্পর্কটি বেশ গভীর। বিবৃতিতে, আল রাই’য়ের প্রতিবেদনটি মিথ্যা বলে জানিয়েছে।
ইত্তেফাক/ জেআর
