এক সপ্তাহ পরেই ঈদ-উল-ফিতর। ঈদকে ঘিরে রাজশাহীতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। ঈদের দিন যতই আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে তৈরী পোষাক, জুতা, খাবার, প্রসাধনীর দোকানগুলোতে। এখন সবচেয়ে বেশি ভিড় তৈরী পোষাক ও জুতার দোকানে। দেশি-বিদেশি পোষাকের মধ্যে থেকে নিজের পছন্দেরটি বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা। এবার রাজশাহীর বাজারে ভারতীয় সিরিয়ালের নামধারী পোষাক তেমন না থাকলেও ভারতীয় পোষাকের কমতি নেই। বলা যায়, রাজশাহীর ঈদ বাজার জুড়ে ভারতীয় পোষাকের ছড়াছড়ি। বাহারী ডিজাইনের কারণে ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে কিনছেন ভারতীয় পোষাক।
শুক্রবার রাজশাহীর আরডিএ মার্কেট, গণকপাড়া হকার্স মার্কেট, জলিল বিশ্বাস মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
দোকানী ও ক্রেতারা বলেন, এবছর ভারতীয় সিরিয়ালের নামানুযায়ী তেমন পোষাক না থাকলেও বাজার জুড়ে ভারতীয় পোষাকের আধিক্য রয়েছে। ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষেও রয়েছে ভারতীয় পোষাক।
এবারের ঈদে মেয়েদের পোষাকের মধ্যে রয়েছে জিপসি, টপস, ফ্রক, কোটি, ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রি পিস, লেহাঙ্গা, ফ্লোরটাচ, শর্ট টপস, লেডিস প্লাজো, জেগিন্স ইত্যাদি। সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে তৈরী পোষাক। এ পোষাকের বেশির ভাগই ভারতীয়।
‘মা-মারিয়াম ফ্যাশনে’র মালিক মনির হোসেন বলেন, এবার ঈদে ‘পাখি’ বা ‘কিরণমালা’র মত সিরিয়ালের নামধারী কোন পোষাক আসেনি। তবে প্রজাপতি রাখি, ডালি ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ করছে। এগুলো কোন বিশেষ পোষাক নয়। টপস, ফ্রগ, ওয়ান পিস, গাউনের মত পোষাকের অন্য নাম। সব গুলোই ইন্ডিয়ান।
দোকানিরা জানন, এবারও ঈদ উপলক্ষে বাজারে ভারতীয় পোষাকের আধিক্য রয়েছে। তবে এবার ভারতীয় নায়িকা ও সিরিয়ালের নামে তেমন কোনো পোষাক আসেনি। এর বিপরীতে বাজার দখল করেছে কিছু পাকিস্তানি পোষাক। আর শাড়ির ক্ষেত্রে এবার দেশিই বিক্রি হচ্ছে বেশি। সব পোষাকের দাম এখন পর্যন্ত সহনশীল আছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতাদের অভিমত এবার সবধরণের পোষাকের দাম বেশি। ছোট বাচ্চাদের পোষাকের দাম তো রীতিমত আকাশ ছোয়া।
থ্রি পিস কিনতে আসা সাবিনা ইসলাম বলেন, ঈদের এখনো বেশকিছু দিন বাকি। তাই আস্তে আস্তে একটা দুইটা করে কাপড় কিনছি। ছোট ভাই ও মায়ের জন্য কাপড় কিনলাম। বাকি আছে ভাই ও বাবার। তবে গরমের কথা ভেবে সবার জন্য সুতির মধ্যেই কেনার চেষ্টা করছি।
নগরীর আরডিএ মার্কেটের লিজা ফ্যাশন হাউসের মালিক আয়েশা আক্তার লিজা বলেন, এবার ঈদে মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রে ভারতীয় ‘ওয়ান পিস’ এসেছে। এটি বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। থ্রি-পিস ‘ফ্লোর টাচ’ বিক্রি হচ্ছে ২৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। মেয়েদের প্লাজো-পাজামা বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এছাড়া পাকিস্তানি লোন ৮শ থেকে ২২শ এবং দেশি থ্রি-পিস ৬৫০ টাকা থেকে ২৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটের নেক্সট কালেকশনের বিক্রয়কর্মী রানা বলেন, এখানে ছোট মেয়েদের সারারা, পার্টি ফ্রক, স্কার্ট ও ডিভাইডার ও জিপসি ১৮শ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছেলেদের জিনসের প্যান্ট, শার্ট ও টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায়। এছাড়া তরুণদের নতুন কিছু গ্যাভার্ডিন প্যান্ট ও শার্ট বাজারে এসেছে। এগুলো সুলভমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/রেজা
