উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী অধিকাংশ সড়কই বেহাল

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৮, ০১:৪৩

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারা এ দুই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ নিয়ে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে দুই উপজেলায় যাতায়াত ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী অধিকাংশ সড়কই এখন উপজেলাবাসীর দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবহারে প্রায় অনুপযোগী এমন অনেক সড়কেরই অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।

ভুক্তভোগী লোকজন বলছেন, যখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি তখন মানুষ শুষ্ক মৌসুমে পায়ে আর বর্ষায় নায়ে চলাচল করেছে স্বাচ্ছন্দ্যে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও সংস্কারের অভাবে বর্তমানে তারা নায়ে বা পায়ে কোনোভাবেই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন না।

সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট থেকে সাদা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৫শ’ ফুট রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়েছিল। এলাকার লোকজন ভাঙা এ অংশে একাধিকবার ধানের চারা রোপণ করে এর প্রতিবাদ করেছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ছাতকে আগমন উপলক্ষে এ অংশের দায়সারা সংস্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। একইভাবে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাউয়া প্রাইমারী স্কুলের সামনে থেকে ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৫শ’ ফুট সড়ক ১০ বছরেও সংস্কার কাজ করা হয়নি। প্রধান সড়কের বেহাল দশার কারণে এখানে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। জালালপুর-লামারসুলগঞ্জ সড়ক ভাঙাচুরা ও খানা-খন্দে ভরপুর। এ সড়কের পালপুর থেকে মঈনপুর পর্যন্ত প্রায় এক কিঃমি রাস্তা খুবই বিপদজ্জনক। পালপুর-মর্যাদ-খুরমা সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। সড়ক জুড়ে খানাখন্দ ও বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলা দুই একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। কালারুকা বাজার থেকে আরতানপুর-চানপুর পর্যন্ত সড়কটির অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নোয়ারাই ইউনিয়নের ফকিরটিলা-ক্যাম্পের বাজার সড়ক যেন মরণ ফাঁদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় একযুগ ধরে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে দুই উপজেলার ১৫-২০টি গ্রামের মানুষ। নোয়ারাই-বাংলাবাজার ও নোয়ারাই-নরসিংপুর সড়ক ভাঙতে-ভাঙতে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সাব সেক্টর ও গণকবর হক নগর পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার একমাত্র সড়ক হচ্ছে বাংলাবাজার-বাঁশতলা সড়ক। এ সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে আছে। যান চলাচলে অনুপযোগী এ সড়কের কারণে পর্যটকরা অনেকটা বিমুখী হয়ে পড়ছেন। জাউয়ার কৈতক থেকে কালীপুর-হায়দরপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক এবং কৈতক-সিরাজগঞ্জ সড়ক দক্ষিণ ছাতকবাসীর দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কামারগাঁও বাজার-আসামপুর সড়কের প্রায় ৩শ’ ফুট সড়কের কারণে বর্ষা মৌসুমে সমতা স্কুল এন্ড কলেজের দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী হাঁটু পানি ও কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। ছাতক পৌর শহরের কোর্ট রোড এলাকার প্রায় ৫শ’ ফুট সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড়-বড় গর্ত। এ ছাড়া ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের নুরুল­াপুর-রামপুর সড়ক, তাজপুর-বরাংপাড়-গন্ধর্বপুর সড়ক, হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কাজীহাটা-নোয়াগাঁও সড়ক, সদর ইউনিয়নের মধুকোনী-রাতগাঁও সড়ক, সিংচাপইড় ইউনিয়নের কপলা বাজার-বড়কাপন সড়ক, লক্ষমসোম-জিয়াপুর সড়ক, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদরগাঁও ইউনিয়নের বুরাইগাঁও-আলমপুর সড়ক, বোকারভাঙ্গা-মানিকগঞ্জ বাজার-খুরমা-কাশিপুর সড়ক, নোয়ারাই ইউনিয়নের জোড়াপানি-চৌমুনী সড়ক, বালিউড়া-চৌমুনীবাজার সড়ক, দোয়ারা উপজেলার দোয়ারা-টেংরা টিলা গ্যাস ফিল্ড সড়ক, টেংরা-মহব্বতপুর-লক্ষীপুর সড়ক, দোয়ারা-টেবলাই সড়ক, বাংলাবাজার-কুমিলাপাড়া সড়ক, আমবাড়ী-দোয়ারা সড়কসহ দুই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রামীণ অসংখ্য সড়ক এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী।

এ বিষয়ে ছাতক ও দোয়ারা উপজেলায় দায়িত্বরত উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর মিয়া বলেন, ছাতক উপজেলার প্রায় দেড়শ’ কি.মি. সড়কের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার ৩৫ কি.মি. সড়কের কাজ চলছে। ৪০ কি.মি. সড়কের সংস্কারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাকি সড়কও পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে। দোয়ারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের সংস্কার কাজের টেন্ডার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু