উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে

আপডেট : ১০ জুন ২০১৮, ১৬:৫১
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সেবা দিচ্ছে মাত্র ৩জন ডাক্তার। অথচ এলাকায় মানুষ বাস করে কয়েক লাখ।
 
বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন নানা সমস্যায় জর্জরিত সরকারি এই সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে হাসপাতালের মধ্যে চিকিৎসকদের বসবাসের আবাসিক ভবন থাকলেও এতে থাকেন না কেউ। তাই সেগুলো আজ নষ্টের পথে।
 
সূত্রে জানা, হাসপাতালে ৩ জন ডাক্তার রয়েছেন। তাও তারা নিয়মিত অফিসে আসেন না। এতো বড় উপজেলায় সব সময় রোগীদের ভীড় লেগেই থাকে। এদিকে ডাক্তারের পাশাপাশি নার্স সংকটও রয়েছে বলে জানান অনেকে। ৩ জন চিকিৎসক আর গুটি কয়েক সেবিকা দিয়ে চলছে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান।
 
রোগীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুই-একটি ওষুধ থাকলেও বাকিগুলো বাহির থেকে কিনে নেওয়ার জন্য বলা হয়।  এটি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান চিত্র। 
 
সরকারী নীতিমালা অনুসারে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১৮জন চিকিৎসক ও ২৮জন সেবিকা থাকার নির্দেশনা রয়েছে। তবু বর্তমানে এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে মাত্র ৩জন চিকিৎসক ও ৮জন সেবিকা। যারা প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা কয়েকশত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। 
 
শুধু চিকিৎসক আর ওষুধ সংকটই নয় এখানকার আলট্রাসোনোগ্রাম মেশিন দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট হওয়ার কারণে এখানকার রোগীদের বেশি খরচে বাহিরে আলট্রসোনোগ্রাম করতে হয়। 
 
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী রহিমা বেগম বলেন, তাকে চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট দিনে আসার কথা বললেও তিনি এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাকে আবার নতুন করে তারিখ দেয়া হয়েছে। আর সরকারের পক্ষ থেকে যে সকল ওষুধ বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়ার কথা রয়েছে সেগুলো বাইরে থেকে কিনে নিতে হয় তাদের।
 
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ্যাড. ইসমাইল হোসেন বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে এক্সরে মেশিনসহ নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিনগুলো অনেক দিন থেকে নষ্ট। তাই অতিসত্বর সরকার এসব সমস্যার সমাধান করলে উপজেলাবাসী উপকৃত হবে।
 
রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এসএম নজমুল আহসান বলেন, বর্তমানে মাত্র ৩জন চিকিৎসক থাকার কারণে স্বাস্থ্যসেবা দিতে সব সময় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই কয়েকজন ডাক্তার দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া তাদের পক্ষে কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আবার ওষুধ সংকট। আমি এই হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যা লিখিতভাবে ওপরমহলকে জানিয়েছি তবুও কোন লাভ হচ্ছে না। 
 
ইত্তেফাক/নূহু