রাশিয়া বিশ্বকাপের খেলা হবে দেশটির ১১টি শহরে। এসব শহরে থাকবে ‘ফ্যান ফেস্ট’। যেসব ফুটবলপ্রেমী মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবে না তাদের জন্য থাকছে মাঠের আমেজ! খেলা ছাড়াও আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে কেনাকাটা ও খাওয়ার সুযোগ। বিনোদনের যাবতীয় ব্যবস্থাও থাকবে।
ফ্যান ফেস্ট থাকছে যেসব শহরে-মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, সোচি, কাজান, সামারা, নিজনি নভগ্রাঁদ, রোস্তভ, একেতেরিনবার্গ, সারানস্ক, কালিনিনগ্রাঁদ ও ভলগোগ্রাঁদ। এসব ফ্যান ফেস্টে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে আয়োজকরা।
মস্কোর ভরোভুওভি গোরিতে থাকছে একটি ফ্যান ফেস্ট। এটির অবস্থান মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। পাশেই রয়েছে মস্কো নদী। অবস্থান পাহাড়ের মতো উঁচুতে থাকায় সহজেই লুজনিকি স্টেডিয়াম এখান থেকে দেখা যায়। ২৫ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের ফ্যান ফেস্টটি শহরের কনুসেনায়া স্কয়ারে অবস্থিত। এটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারের পাশেই। প্রতিদিন ১৫ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে। সোচির সাউথ মল অব দ্য সিপোর্টে রয়েছে একটি ফ্যান ফেস্ট। এটি অনেকটা সাগরের তীরেই। ১০ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে।
কাজানের ফ্যান ফেস্ট শহরের ফ্যামিলি সেন্টারে করা হয়েছে। পাশেই রয়েছে সিটি সেন্টার। প্রতিদিন এখানে ট্যুরিস্ট এবং নগরবাসীর যাতায়াত রয়েছে। ২৫ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে। সামারার ফ্যান ফেস্ট কুভুসেবা স্কয়ারে। এটি রাশিয়ার সবচাইতে বড় স্কয়ার। শহরের মাঝখানেই অবস্থান। সামনেই রয়েছে বিখ্যাত অপেরা হাউস। ২০ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে।
নিজনি নভগ্রাঁদের ফ্যান ফেস্ট শহরের মিনিনা আই পোজহারসকোগো স্কয়ারে। এটি খুবই চমৎকার একটি লোকেশন। ১৫ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে। রোস্তভের ফ্যান ফেস্ট শহরের থিয়েট্রালনায়া স্কয়ারে। শহরের মানুষের পছন্দের জায়গা এটি। ২৫ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে।
একেতেরিনবার্গের ফ্যান ফেস্ট শহরের মায়াকোভস্কি সেন্ট্রাল পার্কে। এটি খুবই জনপ্রিয় একটি পার্ক। ১৭ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে। সারানস্কার ফ্যান ফেস্ট শহরের সোভেসটকায়া স্কয়ারে। শহরের সব বড় আয়োজন এখানেই হয়ে থাকে। ২০ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে।
কালিনিনগ্রাদের ফ্যান ফেস্ট আর্মিল এমবাকমেন্টে। ভলগা নদীর তীরে এটির অবস্থান। ১৫ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবে। ভলগোগ্রাঁদের ফ্যান ফেস্ট শহরের ট্রিসেন্ট্রালনায়া স্কয়ারে। এখান থেকে স্টেডিয়াম খুব বেশি দূরে নয়। ১৫ হাজার দর্শক এখানে বসে খেলা দেখতে পারবে।
ফিফা ফ্যান ফেস্টে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো দর্শক এসে খেলা উপভোগ করবে। এখানে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার পাশাপাশি পুরো ফুটবল মাঠের পরিবেশটাই দর্শকরা উপভোগ করতে পারবে।
২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে লাখো দর্শকের উপস্থিতিতে প্রথম ফ্যান ফেস্ট দেখেছিল পুরো বিশ্ব। যদিও সেই ফ্যান ফেস্টটি ছিল অনানুষ্ঠানিক। পরে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যান ফেস্টের উদ্বোধন করে ফিফা। সেই সময় বার্লিনের ৪টি ফ্যান ফেস্টে তিন লাখের বেশি মানুষ ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছে।
ইত্তেফাক/কেআই
