দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে দাদন ব্যবসায়ীসহ এনজিওর ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতে আইনুল সরকার (৪০) নামে এক ভ্যান চালকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মাহুতি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত মঙ্গলবার উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ি গ্রামে। আইনুল ইসলাম ওই গ্রামের আলীম উদ্দিন সরকারের ছেলে।
আইনুল সরকারের স্ত্রী মোছাঃ মোমেনা বেগম বলেন, সংসারের অভাব মেটাতে চারটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন আইনুল। এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য স্থানীয় এক দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন। রিকশা-ভ্যানের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় বেশ কিছুদিন থেকে বেকার হয়ে পড়েছিলেন। এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীর সুদের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
রিকশা-ভ্যানের অচল ব্যাটারি ঠিক করার কথা বলে গত সোমবার সকালে বাড়ি থেকে আইনুল বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে পার্শ্ববর্তী গোয়ালডাঙ্গা দীঘির পাড়ের গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ পাওয়া যায়।
আইনুলের বৃদ্ধ মা আমিনা বেগম বলেন, গত সোমবার সকালে আইনুল বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেও রাতে ফেরেনি। দাদন ব্যবসায়ী একই ইউনিয়নের শ্রীহরিপুর ডগড়ার পাড় গ্রামের সাবেক পুলিশ কনস্টেবল আইয়ুব আলীর ছেলে মো. বাবু। তিনি দাদনের টাকা তুলতে সোমবার রাত ৯টায় আইনুলের বাড়িতে আসে। আইনুল বাড়িতে নেই বলার পরও সে বাড়ির বাইরের দরজার ধাক্কাধাক্কি করে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে টাকার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলে যায়। অভাবে পড়ে আইনুল দাদন ব্যবসায়ী বাবুর কাছে সুদের ওপর পাঁচ হাজার টাকা ঋণ করে। ওই পাঁচ হাজার টাকা এখন ১৫হাজার হয়ে গেছে। সেই টাকা তুলতেই বাবু বিভিন্ন সময় আইনুলকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।আইনুল আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এ নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
কথিত দাদন ব্যবসায়ী মো. বাবুকে তার মুঠোফোন ০১৭৬৭২৯৭০৪৪ নম্বরে ফোন দেওয়া হলে ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু সংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরই অপর প্রান্ত থেকে বাবু নেই বলেই ফোনের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাসিম হাবিব বলেন, দাদন ব্যবসায়ীর হুমকি ও চাপের কারণে আইনুল আত্মহত্যা করেছে কী না সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। চাপ ও হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
