যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দ-উৎসবের মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামর ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশি, শিক্ষার্থী এবং মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান। স্বাগত বক্তৃতাদানকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূলনীতিসমূহ যেমন- স্বাধীনতা, মানবতা, উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের অহংবোধ প্রতিষ্ঠা লগ্নে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
হাইকমিশনার বলেন, উভয় কবিই তাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন তৎকালীন পূর্ব বাংলায় তথা বর্তমান বাংলাদেশে এবং পূর্ব বাংলার লোক সংস্কৃতি ও মানুষের সংগ্রামী জীবন তাদের সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য। রবীন্দ্রনাথের বাংলা বন্দনা এবং নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা বাঙালিদের ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
IMG0
হাইকমিশনার আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অসুস্থ কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফরের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, সে সময়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন এবং আসানসোলের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি গ্রহণ করেন।
আলোচনা শেষে, সাংস্কৃতিক পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুলের কবিতা আবৃতি ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। প্রবাসী বাঙালি, দূতাবাসের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশি শিশুরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
ইত্তেফাক/ইউবি
