বয়স মাত্র ২৩। এই সময়ে দেশের হয়ে মাঠ মাতিয়ে বেড়ানোর কথা তার। আর তখনই কি-না বিদায় বলে দিলেন। ইরানের মেসিখ্যাত ফুটবলার সরদার আজমাউন সদ্যই বিশ্বকাপ শেষ করে দেশে গিয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা জানালেন। আর এ জন্য দেশটির সমর্থকরাই দায়ী বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপে সব ফুটবলারই আসেন নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে দেশের হয়ে কিছু অর্জন করতে। ইরানও এসেছিল। কিন্তু টুর্নামেণ্টে মোটেও ভালো খেলতে পারেননি ইরানের স্ট্রাইকার সরদার আজমাউন। এজন্য সমর্থকরা দুয়োধ্বনির পাশাপাশি তাকে গালাগালিও করেন। ভক্তদের এমন বাজে ব্যবহারে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে উঠ। তাই ক্ষোভে দু:খে অবসরের ঘোষণা দেন আজমাউন।
আজমাউন ৩৩ টি আর্ন্তজাতিক ম্যাচে দেশের হয়ে ২৩ গোল করেছেন। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ১৪ ম্যাচে ১১ গোল করে সমর্থকদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন। অথচ বিশ্বকাপে একদম ব্যর্থ হন ইরান। এক জয়, ড্র ও হার নিয়ে ৩ পয়েন্ট পেয়ে ইরান বাদ পড়লেও তাদের খেলা মন জয় করে অনেক ফুটবল প্রেমীর। তবে ইরানের ব্যর্থতার জন্য অনেকে আজমাউনে নিষ্প্রভতাকেও দায়ী করে কটুক্তি করেন। আর এতে আজমাউনের মা বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ে।
IMG0
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে আবেগতাড়িত এক লেখা পোস্ট করেন আজমাউন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দেশের হয়ে খেলা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্যেই স্বপ্ন। আমি এবং আমার সতীর্থরা তাদের পুরো সামর্থ্য দিয়ে বিশ্বকাপে লক্ষাধিক ইরানিয়ানদের পক্ষে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা সবাইকে খুশি করতে পারিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা আমাদের জন্য গর্বের এবং আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এটা নিয়ে গর্ব করে যাবো। দুর্ভাগ্যবশত, আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মাত্র ২৩ বছর বয়স্ক এক যুবক। কিন্তু এইটুকু বয়সেই আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে হলো।’
উল্লেখ্য, রাশিয়ার রুবিন কাজান ক্লাবের হয়ে খেলেন আজমাউন। জাতীয় দল ছাড়লেও ক্লাব ফুটবল নিয়ে কোন কথা বলেন নি আজমাউন। বিবিসি।
ইত্তেফাক/রেজা
