বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের দোতলার রেলিং থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বায়জিদ বোস্তামি (২২) নামের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-১ অধ্যয়ন করছিলেন। বায়জিদের পিতার নাম মো. সাইফুল ইসলাম। বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোহরাওয়ার্দী হলের ডি ব্লকের রেলিংয়ে বসে ফোনে কথা বলতে বলতে অন্যমনস্ক হয়ে নিচে পড়ে যান বায়জিদ। এতে মাথায় বড় রকমের চোট পান তিনি। পরে হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন দেওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পরে অ্যাম্বুলেন্স আসে। এ সময়ের মধ্যে অনেক রক্তক্ষরণ হয়। অ্যাম্বুলেন্স যথাসময়ে এলে হয়তো মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যেতেন বায়জিদ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র দুটি অ্যাম্বুলেন্স। তার মধ্যে একটি নষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। এতে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. সাঈদুর রহমান শওকতের কাছে অ্যাম্বুলেন্স বিলম্বের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারা গিয়েছে এটা আমার জানা নেই। তাই কিছু না বলাই ভাল।
চিফ মেডিক্যাল অফিসারের সঙ্গে মুঠোফোনে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ধরেননি।
এদিকে বায়জিদের আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
