দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘স্পাইক্যাম পর্নোগ্রাফি’ বা গোপন ক্যামেরায় মেয়েদের ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে প্রকাশ করার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজার হাজার নারী। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নারী বিক্ষোভের ঘটনা এটি। শনিবার রাজধানী সিউলে ওই বিক্ষোভে নামেন নারীরা। খবর বিবিসি’র।
খবরে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় সকল জায়গায় গোপন ক্যামেরায় কুকর্মকারীরা নারীদের ছবি তোলে বা ভিডিও ধারণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা আতঙ্কজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় দেশটিতে পর্নোগ্রাফি বিতরণ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব ছবি বা ভিডিও ব্যাপক হারে অনলাইনে শেয়ার করা হচ্ছে। এরকম ঘটনার শিকার মেয়েদের কাহিনী প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে গণমাধ্যমে।
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, নারীদেরকে প্রতিনিয়ত ছবি তোলার বা ভিডিও ধারণের শিকার হওয়ার আতংকের মধ্যে বাস করতে হচ্ছে। শনিবার এ ধরণের কুকর্মকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ৫৫ হাজার নারী।
IMG0
বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই কিশোরী। সাধারণত এই বয়সী মেয়েদেরকেই গোপন ক্যামেরার শিকার হতে হয় বেশি। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে নামে। এগুলোর কোনটাতে লেখা ‘আমার জীবন তোমার পর্ন নয়’।
‘যারা এসব ভিডিও ধারণ করে! যারা এগুলো আপলোড করে! যারা দেখে! তাদের সকলকে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত’- এমন স্লোগান দিয়ে শনিবার বিক্ষোভ করেন দক্ষিণ কোরীয় নারীরা। তারা আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, মুখোশ, টুপি ও সানগ্লাস দিয়ে নিজেদের মুখ ঢেকে বিক্ষোভে যোগ দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, যৌনতা সংশ্লিষ্ট ছবি তৈরি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৮ হাজার ৯৭০ ডলার জরিমানা করা হতে পারে। আর সেসব ছবি লাভের জন্য ছড়িয়ে দিলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ২৬ হাজার ডলার জরিমানা করা হতে পারে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবি, সত্যিকারে অপরাধীরা এতটা শাস্তি পায় না।
ইত্তেফাক/ জেআর
