হাটহাজারী সদরে এক স্কুলছাত্রী (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অলি উল্লাহ পাভেল (২৪) ও তার ভাই হাবিব উল্লাহ রুবেলসহ দুই মহিলা সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করেছে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটির পরিবার। মামলা দায়েরের পর দুই আসামীকে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। অভিযুক্ত আটক ধর্ষক পাভেল ও রুবেল হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম দেওয়ান নগরস্থ খেরুপাড়া ভোলা হাজি বাড়ির মৃত জাকির হোসেনের পুত্র।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি হাটহাজারী উপজেলার একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। হাটহাজারী বাস স্টেশনের জেএন্ডজে মার্কেটে অভিযুক্ত ধর্ষক অলি উল্লাহ পাভেল ও তার বড় ভাই হাবিবুল্লাহ রুবেলের জে আর সু কালেকশন নামে একটি জুতোর দোকান রয়েছে। পিতা মাতার সঙ্গে ভিকটিম ছাত্রীটি উক্ত জুতোর দোকানে কেনাকাটার জন্য আসা যাওয়া করতো। দোকানী পাভেল এবং রুবেলের সঙ্গে সে সময় পরিচয় হয়।
সে পরিচয়ের সূত্র ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে রুবেল তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রিকশায় তুলে নেয়। পরে ফুসলিয়ে হাটহাজারী পৌর এলাকার ৪তলা ভবনের একটি ফ্লাটের ভাড়াটিয়া দুই মহিলার সহযোগিতায় ধর্ষণ করে। এদিকে ধর্ষণের এক পর্যায়ে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধর্ষক পাভেল তার মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। তারপর ওই ছাত্রীকে ভয় দেখায়, ঘটনা কাউকে প্রকাশ করলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দেবে।
বাসায় ফিরে ভিকটিম তার মা ও বড় বোনকে বিষয়টি জানায়। তার পরিবারের লোকেরা অভিযুক্ত পাভেলের বড় ভাই রুবেলকে ঘটনাটি জানায়। রুবেল বিষয়টি কাউকে না জানানোর অনুরোধ জানিয়ে পাভেলের উপযুক্ত বিচার ও ঘটনাটির মীমাংসা করে দেবে বলে তাদের আশ্বস্ত করে। এভাবে বারবার সময় নষ্ট করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ১৭ জুলাই ওই ছাত্রীর বাবা রুবেলের দোকানে গিয়ে তাকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে কল দেয়। তখন রুবেল ছাত্রীর পিতাকে উল্টো প্রান নাশের হুমকি দেয়।
অবশেষে ছাত্রীটির পিতা গত বৃহস্পতিবার সকালে জে আর সু কালেকশনের অলি উল্লাহ পাভেল, হাবিব উল্লাহ রুবেল এবং অজ্ঞাতনামা দুই মহিলার বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাংগীর বলেন, মামলা দায়েরের পর রুবেল এবং ডলিকে আটক করেছে পুলিশ এবং ধর্ষণে অভিযুক্ত পাভেল ও অপর মহিলাকে আটকে পুলিশি অভিযান চলছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ছাত্রীটিকে চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
