মানিকগঞ্জে তারেক-মিশুকের দুর্ঘটনাস্থলে মানববন্ধন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫০
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিশুক মনীর স্মরণে স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মানববন্ধন-আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন করা হয়েছে।  আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকার দুর্ঘটনাস্থলের স্মৃতিস্তম্ভের পাশে জেলা প্রেসক্লাব, তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর স্মৃতি সংসদ, বারসিক, প্রথম আলো বন্ধু সভাসহ বিভিন্ন সংগঠন এসব কর্মসূচি পালন করে।
 
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রথমে তারেক মাসুদ-মিশুক মনীর স্মৃতি ফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এরপর দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট দিপক কুমার ঘোষ, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহঙ্গীর আলম বিশ্বাস, তারেক মাসুদ-মিশুক মনীর স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিপন আনসারী, নাট্য পরিচালক গিনি আলম, সাবেক ফুটবলার হাফিজুর রহমান ফিরোজ, আজাহারুল ইসলাম আরজু, ইকবাল হোসেন কচি, পারভেজ বাবুল, বারসিক প্রতিনিধি সুবীর কুমার সরকার প্রমুখ।
 
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, আজ সারা দেশের মানুষের প্রধান দাবিই হচ্ছে নিরাপদ সড়কের। আর এই নিরাপদ সড়কের দাবি আদায়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সরকারের চোখ খুলে দিয়েছে। যা এদেশে দেশে ইতিহাস হয়ে থাকবে।
 
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সকালে কাগুজের ফুল সিনেমার সুটিং স্পট দেখে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শালজানা গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র  নির্মাতা তারেক মাসুদ, তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ ৯ জনের একটি দল।
 
পথিমধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার জোকা নামক এলাকায় তাদের বহনকৃত মাইক্রোবাসটি পৌঁছালে বিপরীতগামী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংর্ঘষ হয়। এসময় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ভেতরে থাকা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ প্রডাকশন সহকারী ওয়াসিম, জামাল এবং মাইক্রোবাস চালক মুস্তাফিজুর রহমানসহ ৫জন নিহত হন। সেই দুর্ঘটনায় আহত হন তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিল্পী ঢালী আল মামুন ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম জলি।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি