পাবনার বেড়া উপজেলায় সেবিকাদের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। শনিবার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনাটি ঘটে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লার আবুল হাশেম (৫৫) পেটে ব্যাথা নিয়ে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামানের পরামর্শেতাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত সেবিকারা ওই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে একটি স্যালাইন পুশ করেন। কিন্তু এর পর থেকে রোগীর পেটের ব্যাথা যেমন বেড়ে যায় তেমনি তিনি চরম অস্বস্তিতে ছটফট করতে থাকেন।
বিষয়টি কর্তব্যরত সেবিকাদের জনানো হলে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন এ ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। পরে স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডেকে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও সেবিকারা তাতে কর্ণপাত করেনি। স্বজনদের অভিযোগ বিষয়টি নিয়ে সেবিকাদের কাছে বারবার যাওয়ায় তারা বিরক্তি প্রকাশ ও দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে রোগী ছটফট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে দেখতে গিয়ে জানান তার মৃত্যু হয়েছে। এতে রোগীর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তারা এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
রোগীর শ্যালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘মূলত সেবিকাদের অবহেলার কারণেই আমার দুলাভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। অভিযুক্ত সেবিকারা তদন্তে দোষী হলে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্বজনেরা জানান, ওই রোগীর চিকিৎসাকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন সেবিকা নাসিমা খাতুন, সবিতা রাণী ও ব্রাদার মতিয়ার হোসেন। গতকাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে নার্স সুপারভাইজার সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা ডিউটি শেষ করে চলে গেছেন। ঘটনার সময় আমি ডিউটিতে ছিলাম না।’
ইত্তেফাক/নূহু
