চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরি ও মারধরের ঘটনায় ১১ ছাত্রলীগ কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে চবি প্রক্টর অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী।
বহিষ্কৃতদের দুইজনকে এক বছর, দুইজনকে ছয় মাসসহ আরো সাতজনকে দুই মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
চবি প্রক্টর সাংবাদিকদের জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর শাটল ট্রেনে এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা ও ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মাহামুদুল হাসান রুপককে এক বছরের জন্য এবং একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো: সাব্বির হোসেন, রাজিবুল আলম ও মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তৈমুর হোসেনকে দুই মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মী বলে জানা যায়।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডিস ঝুপড়িতে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সান্তনু নাথ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সালাউদ্দিন চৌধুরীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের এমাদ উদ্দিন, লোক প্রশাসন বিভাগের ইব্রাহিম খলিল, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সালাউদ্দিন সাজ্জাদ এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিদ্যা বিভাগের লিপটন দাশকে ২ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৩০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস বিভাগের ও আমানত হলের আবাসিক ছাত্র মো: জাহিন খন্দকারের রুম থেকে লাপটপ ও মোবাইল চুরির ঘটনায় একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের কাউসার ইবনে কাসেম ও মোঃ রিফাত হাসনকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও, গত ২৯ মার্চ ইতিহাস বিভাগের ২০১৬ -১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র গিয়াস উদ্দিন হিমেল ও তার অভিভাবককে মারধরের ঘটনায় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সামদানি রহমান জিকুকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
চবি প্রক্টর আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ রেসিডেন্স হেলথ এন্ড ডিসিপ্লিন কমিটির এক বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই বহিষ্কার বিষয়ে সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বহিষ্কার আদেশ কার্যকর শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
