হবিগঞ্জের বাহুবলের হাওর থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সন্ধ্যায় সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রউয়াইল গ্রামের হাওরে দিনভর অভিযান চালিয়ে এ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। নিহত যুবক হবিগঞ্জ পৌর এলাকার উমেদনগর গ্রামের মৃত আকল মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া (২৫)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহরের শায়েস্তানগর মাছ বাজারে শ্রমিকের কাজ করতেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ৪ বছর আগে উমেদনগর গ্রামের মৃত আকল মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া সদর উপজেলার টঙ্গিরঘাট গ্রামের মকসুদ আলীর মেয়ে সুখবানুকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন অনেকটা সুখেই চলছিল। এর মধ্যে সুখবানু ও কাউছারের সংসারে এক সন্তানের জন্ম হয়।
সম্প্রতি কাউছার মিয়ার স্ত্রী সুখবানু তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। স্ত্রীকে দেখার জন্য সোমবার রাত কাউছার মিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে সুখবানু উঠে দেখেন তার স্বামী কাউছার ঘরে নেই।
এ সময় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তারা জানান, কাউছার কোথায় গেছে জানেন না। এক পর্যায়ে সুখবানুর বাবা মকসুদ আলী তাকে বলেন, তোর স্বামী রাতে গাছের মধ্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। আমরা নিজেরা বাঁচার জন্য তার লাশ ঘুম করে ফেলেছি। এ ব্যাপারে তুই কোনো কথা বলিস না। এরপর সুখবানুকে তার শ্বশুর বাড়ি উমেদনগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
উমেদনগরে আসার পর কাউছারের পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান জানতে চাইলে সুখবানু জানান, কাউছার কোথায় কাজে গেছে। তবে তাকে কিছু বলে যায়নি। ২/৩দিন কাউছার বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজনদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। ঘটনার ৫ দিনের মাথায় শনিবার সকালে কাউছারের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল হাসিমের কাছে সুখবানুকে নিয়ে যান। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে সুখবানু জানায় কাউছার তাদের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছিল। তার বাবা-মা লাশ ঘুম করে ফেলেছে। সাথে সাথে পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে কাউছারের স্ত্রী সুখবানু সদর মডেল থানায় এসে এ বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন।
সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান টঙ্গিঘাট গ্রামে গিয়ে কাউছারের শ্বশুর মকুসদ আলী ও তার শাশুড়ি খয়রুনেচ্ছা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসবাদ করেন। কাউছারের শ্বশুর মকসুদ আলী পুলিশকে জানান, কাউছার গাছের মধ্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নিজেরা বাঁচার জন্য তার লাশ হাওরে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশ রউয়াইল হাওরে গিয়ে দিনভর খোঁজাখুজি করে সন্ধ্যার দিকে কচুরী পানার নিচ থেকে কাউছারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জানান, পরিকল্পিতভাবে কাউছারকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কাউছারের শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে
