চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার আসমানখালি এলাকার ভোগাইল বগাদি গ্রামের মৃত ফকির বিশ্বাসের ছেলে ইদ্রিস সাধু প্রশাসনের আড়ালে রমরমা মাদকের ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার অনেক ছাত্র, যুবক ও ব্যবসায়ীদের মাদকের ঘোরে পাগল বানিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইদ্রিস সাধুর বিরুদ্ধে এলাকার নারীদের ফাঁদে ফেলে ভোগ করার অভিযোগ করেছে এলাকার মানুষ।
এই বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম কোন অবৈধ আস্তানা এলাকায় থাকবে না। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। সত্যতা পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপর সোমবার রাতে পুলিশ ইদ্রিস সাধুর আস্তানায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইদ্রিস সাধু যথারীতি পালিয়ে গেলেও তার অনুসারী চারজনকে পুলিশ আটক করে। এ সময় এক অনুসারীর প্রাইভেট কারও জব্দ করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন, দিলীপ কুমার, আতিয়ার রহমান, শাহীন ও ডালিম।
সরেজমিন দেখা গেছে, ইদ্রিস সাধু ভোগাইল বগাদির নিভৃত মাঠের মধ্যে চারিদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আস্তানা তৈরি করেছেন। তার আস্তানায় মাঠ পেরিয়ে বাগানের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া আস্তানায় যাওয়ার একটি কাঁদামাখা কাঁচা রাস্তা আছে। যা ব্যবহারের অনুপযুক্ত।
আস্তানার কাছাকাছি গিয়ে দেখা যায়, এখানে ওখানে কয়েকজন এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে আছে। জানা যায়, এরা ইদ্রিস সাধুর সেন্ট্রি। তারা কোন গাড়ির শব্দ বা অপরিচিত কাউকে দেখলে সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাধুকে জানিয়ে দেয়।
বগাদি গ্রামের মতিন আলী জানান, ইদ্রিস সাধুর আস্তানায় তার অনুসারীরা রাতে মাদক সেবন ও বিক্রি করে থাকে। এই কাজের প্রধান সহযোগী তার সেন্ট্রি ভোগাইল বগাদি গ্রামের মৃত ফাকের আলির ছেলে তাহাজদ্দিন ফকির। এই আস্তানায় ইদ্রিস সাধু ২০/২৫টি কুকুর পুষে রেখেছে। তিনি আইনশৃংখলা সংস্থার চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য পাগল সেজে থাকে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে ইদ্রিস সাধু তার ঘরের জানালা দিয়ে বাইরে মাটির নিচে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে।
কিন্ত সেন্ট্রি তাহাজুদ্দিন ইদ্রিস সাধুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিভিন্ন রোগ ও সমস্যা নিয়ে পুরুষ বা মহিলা ইদ্রিস ফকিরের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সাধু আধ্যাত্মিক ক্ষমতা খাটিয়ে তাদের রোগ নিরাময় করে দেন। এতগুলো কুকুর কেন পোষা হয় জানতে চাইলে, তিনি বলেন, কুকুরের মাধ্যমে সাধু আধ্যাত্মিক ক্ষমতা পায়।
তবে বগাদি গ্রামের কুতুবউদ্দিন জানান, মোটা তাজা কুকুর রাখা হয় মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য। তিনি জানান, এখানে চিকিৎসার নামে ভাগিয়ে নিয়ে আসা নারীদের টাইগার পানীয়তে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সাধু নিজে খায় এবং রোগীদেরও খাওয়ায়। এভাবে আসতে-যেতে নারীরা এক সময় ইদ্রিস সাধুর সম্মোহনীতে পড়ে যায়। এক পর্যায়ে তারা মোহে পড়ে সবকিছু হারান।
তিনি জানান, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর এলাকার অনেক ছাত্র ও যুবকদের মাদক সেবনে বাধ্য করে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে সাধু। অনেক যুবক নেশার কারণে অর্ধ পাগলে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনায় অনেক পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইদ্রিস সাধুর এমন অভিযেগে আলমডাঙ্গা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে জেল জরিমানাও করেছ্নে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তার আস্তানায় ফিরে কিছুদিন পর আবারও সে অপরাধ জগতে ঢুকে পড়ে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান জানান, চারজনকে আটক করে তাদের মোটিভেটেড করা হয়েছে। তারা ওই সাধুর আস্তানায় আর যাবে না বলে কথা দিয়েছে। তিনি জানান, পুলিশ ইদ্রিস সাধুর আস্তানা খুব দ্রুত গুড়িয়ে দেবে।
ইত্তেফাক/নূহু
