ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, অগণতান্ত্রিক চর্চার কারণে ইউরোপে কম্বোডিয়া তার বাজার হারাতে পারে। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইইউ’র মানবাধিকার বিষয়ক ‘সমস্যা’ নিয়ে কম্বোডিয়ায় বাণিজ্য চাপ বাড়ানোর হুমকির সিদ্ধান্ত হলো ‘চরম অবিচার’। এতে দেশে কয়েক দশক ধরে হওয়া উন্নয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইইউ বলেছে, জুলাইয়ের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গত তিন দশকের শাসনকে বর্ধিত করেছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। যার ফলে মানবাধিকার সম্পর্কিত উদ্বেগগুলোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের বৃহত্ বাণিজ্য অঞ্চল ইইউতে প্রবেশের বিশেষ যোগ্যতা হারাবে।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ার সরকার এই সিদ্ধান্তটি কেবলমাত্র ‘চরম অবিচার’ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। যখন ইইউ’র সাম্প্রতিক দুঃখজনক অতীত থাকা সত্ত্বেও কম্বোডিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে অবহেলা করে। এই প্রত্যাহার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইইউ দেশটির ২০ বছরের বিকাশের প্রয়াসকে অস্বীকার করে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ইইউ ঘোষণা করেছে যে, কম্বোডিয়ার ছয় মাসের শুল্কমুক্ত অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর অগ্রাধিকার বাণিজ্য পরিকল্পনার অধীনে দেশটির ইউরোপের বাজারে সর্বক্ষেত্রে প্রবেশের বিশেষ সুবিধা হারাবে। ইইউ বাণিজ্য কমিশনার সিসিলিয়া মালমস্ট্রম বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বিষয়গুলো স্থগিত রাখা হবে। যদিও ইউরোপের প্রতিনিধি দলটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়াটি এখনো এক বছরের বেশি সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশক ধরে বিশ্বের ষষ্ঠ দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ হলো কম্বোডিয়া। দেশটির গড় মোট দেশি পণ্যের প্রবৃদ্ধির হার হলো সাত দশমিক ছয় শতাংশ। মূলত দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউতে বিপুল পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করে থাকে। -আল জাজিরা
ইত্তেফাক/ জেআর
