আদমদীঘি এলাকায় নকশা বহির্ভূত কার্যক্রম বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫২

কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের ঐতিহ্যবাহী আদমদীঘি এলাকায় নকশা বহির্ভূত সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই এলাকার বাসিন্দা নাজমুল আলমের এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

রিটকারীর পক্ষের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘গত বছরের ২৯ অক্টোবর কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট এলাকার আমদীঘির লিজ (বন্দোবস্ত) বাতিল করে ভরাট বন্ধে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্পেশাল সার্ভে কমিটি করে ৯০ দিনের মধ্যে লিজ বাতিল ও ভরাট বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপ বিষয়ে আদালতকে জানাতে বলা হয়। এছাড়া আমদীঘিতে মাটি ভরাট বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া প্রতিবেদন দেখে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।’

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট এলাকার আমদীঘিতে অবৈধ ভরাট কার্যক্রমের সত্যতা রয়েছে। সেখানে ১৯৯২ সালের মূল নকশায় আমদীঘিসহ একাধিক দীঘি রয়েছে। তবে আমদীঘিকে খাস জমি দেখিয়ে গত বছর ৬ জনকে লিজ দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত বছরের ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় ওই লিজ বাতিল করে মাটি ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তারপরও সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’

আরও পড়ুনঃ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

উল্লেখ্য, এর আগে ওই আমদীঘিকে প্লট দেখিয়ে ভরাটের বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিবাদীকে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন আমদীঘি এলাকার বাসিন্দা নাজমুল আলম। রিটে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, স্বরাস্ট্র সচিব, পরিবেশ ও বন সচিব, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদফতর, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়। 

ইত্তেফাক/নূহু