রাজধানীতে বাড়ছে কর্মব্যস্ত মানুষের সংখ্যা। বাড়ছে পথচারীর সংখ্যাও। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ঢাকায় বসবাসকারী দুই কোটি মানুষের মধ্যে পথে চলাচল করে ৮০ লাখ মানুষ। এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মাত্র ৭৫টি ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেট রয়েছে। এর উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে বিপুল সংখ্যক পথচারীকে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে তারা। বিশেষ করে, নারী ও প্রতিবন্ধীদের এ নিয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হলেও তাদের জন্য টয়লেটগুলোতে কোনো সুবিধা নেই।
২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ৬৯টি পাবলিক টয়লেটের মধ্যে ৭৫ শতাংশেই নারীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই এবং পরিবেশ ভয়াবহ রকমের খারাপ। দুর্গন্ধ, ভাঙা দরজা, ছিটকিনি না থাকা, ছাদের পানি চুয়ে পড়া, এমনকি নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।
তবে বর্তমান অবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অত্যাধুনিক কিছু পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার এইড দুই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার সঙ্গে চুক্তি করে ১০টি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে। সেগুলো নারী-পুরুষ উভয়ই ব্যবহার উপযোগী। তবে এর পরিমাণ নগরীর লোক সংখ্যার চেয়ে অপ্রতুল। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, সংস্থাটির আওতাধীন এলাকায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৩টি পাবলিক টয়লেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের অধীনে এই পাবলিক টয়লেটগুলো নির্মাণ হবে। ২০১৯ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র মোস্তফা জামাল জানান, নগরবাসীকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে আমরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ শুরু করেছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটির উদ্বোধন হয়েছে। আশা করি, সামনের দিনগুলোতে নগরবাসী-পথচারীদের অসুবিধা অনেকাংশেই কমে আসবে।এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তার আওতাধীন এলাকায় ১০০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি।
দুইটি সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে, নগরীতে সর্বমোট পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা মোট ১০০টি। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি এলাকায় ৫৩টি ও উত্তর সিটিতে ৪৭টি। এগুলোর মধ্যে ৩৬টি ইজারার মাধ্যমে এবং ১০টি বিভাগীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পাবলিক টয়লেটের মধ্যে ২৯টি মামলাধীন, ১২টি পরিত্যক্ত বা অব্যবহূত এবং তিনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
ইজারাধীন পাবলিক টয়লেটগুলো ব্যবহার করতে খরচ হচ্ছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। যেগুলো ছিন্নমূল বা সাধারণ পথচারীরা ব্যবহার করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে পাবলিক টয়লেটের অপ্রতুলতার কারণে হকার, ভিক্ষুক, রিকশা চালক ও ভাসমান মানুষ উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সভাপতি আবু নাসের খান বলেন, ঢাকার পরিবেশ স্বাস্থ্য উপযোগী করে রাখার জন্য পাবলিক টয়লেটের বিকল্প নেই। বিপুল জনসংখ্যার এই শহরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে নানা অসুবিধা তৈরি হবে।
এদিকে রাজধানীতে যেসব পাবলিক টয়লেট সচল আছে— এর কোনোটির দরজা নেই, ছিটকিনি নেই। কোনো কোনো বাথরুমে ময়লা-আবর্জনায় ভরা। আবার কোনোটির কমোড ভাঙা। একেবারে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে কোনোটি। রাজধানীর ফার্মগেট, তেজগাঁও, কাওরান বাজার, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
