রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

টিকার আওতায় ৬২ শতাংশ মানুষ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:১৩

করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। গত জানুয়ারি মাসে সর্বাধিক প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে গতকাল রবিবার পর্যন্ত মোট ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৭ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৫৩৫ জন। বুস্টার ডোজ পেয়েছেন ১৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি মানুষ টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাবেন। এ পর্যন্ত যতগুলো গবেষণা হয়েছে তার ফলাফলে দেখা গেছে, টিকা নিলে ৮০ ভাগ মৃত্যুঝুঁকি নেই। করোনায় যারা মারা গেছেন, তাদের ৮০ শতাংশই টিকা নেননি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, নিরাপদ থাকতে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

দেশের ১৩ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে সরকার। এর মধ্যে কোভ্যাক্সের আওতায় ২ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ডোজ সিনোফার্ম, চীন থেকে ৭ কোটি ৭০ লাখ সিনোফার্ম ও ৭ কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার সিনোভ্যাকসহ মোট ১৫ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ডোজ এবং ভারত থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। দেশে ১২ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি ৪০ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান শুরুর পর ১ নভেম্বর থেকে ঢাকায় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়াদের কোভিড টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। আর গত ২৮ ডিসেম্বর সারা দেশে করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জনসন অ্যান্ড জনসনের ৩ লাখ ৩৬ হাজার ডোজ টিকা পায় কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। এক ডোজের এসব টিকা ভাসমান মানুষকে দেওয়া হচ্ছে।

দেশে ভাসমান মানুষের সঠিক সংখ্যা নেই। তাদের জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থায়ী ঠিকানা নেই। তাই তাদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া নিশ্চিত করা জটিল ব্যাপার। এজন্য ভাসমান মানুষকে জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির টিকা দিচ্ছে সরকার। এদিকে রাজধানীর মিরপুরের একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে রাজধানীর মিরপুর জামিয়া সিদ্দিকিয়া নূরানী মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরুর সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঢাকা সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। সরকারি হিসাবে দেশে কওমি মাদ্রাসা আছে ১৯ হাজার ১৯৯টি। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, যারা টিকা গ্রহণ করে, তাদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি কম। আক্রান্ত হলেও হাসপাতালে যাওয়া লাগে না। আইসিইউর প্রয়োজন হয় না। তবে টিকা শতভাগ নিরাপদ রাখতে পারে না। টিকার পাশাপাশি মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে শতভাগ নিরাপদে থাকা যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। গত জানুয়ারি মাসে সর্বাধিক মানুষ টিকা নিয়েছেন। টিকা নিয়ে আক্রান্ত হলেও ঝুঁকি থাকে কম। এ জন্য টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই সবাইকে টিকা দিতে উত্সাহিত করতে হবে। টিকা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা একটা আরেকটার সম্পূরক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। জানুয়ারি মাসে ৩ কোটি ৪০ লাখ লোক টিকা নিয়েছে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি মানুষের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হবে। এটা বড় অগ্রগতি। তিনি বলেন, টিকা যারা নেয়, তারা আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। তাই সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘জুলাইয়ের শেষে ৫-১২ বছর বয়সীদের করোনার টিকা’

শিশুদের টিকা নিতে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সপ্তাহব্যাপী করোনার বুস্টার ডোজ কার্যক্রম শুরু আজ

৪ জুন থেকে করোনার বুস্টার ডোজ সপ্তাহ শুরু  

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

প্রতি বছরই করোনার টিকা নিতে হতে পারে: ফাইজার

আরও ১৮ লাখ ফাইজারের টিকা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

দেশের তৈরি ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মানবদেহে ট্রায়ালে নীতিগত অনুমোদন

বিশেষ সংবাদ

করোনায় কোন টিকা কতটা কার্যকর