চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি ইবির অস্থায়ী কর্মচারীদের

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২১:৪৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন করেছেন অস্থায়ী কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ আন্দোলন করেন তারা। এতে বিকেল পৌনে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত বাস কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে বিলম্ব হয়। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে ঘন্টাখানেক পরে কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। 

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শতাধিক কর্মচারী কাজ করেন। তাদের বেশিরভাগই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এ সব কর্মচারীরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি করে আসছেন। পরে তারা 'অস্থায়ী চাকুরিজীবী পরিষদ' গঠন করে এই ব্যানারে চাকরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫৪তম সিন্ডিকেট সভায় ২০১৮ সালে অনুমোদন হলেও পরবর্তীতে নিয়োগ বাতিল হওয়া এক শিক্ষককে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তার নিয়োগের প্রতিবাদ জানাতে ক্যাম্পাসে জড়ো হন কর্মচারীরা। তারা সিন্ডিকেটে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ২০১৮ সালের ওই শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ জানান ও তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান।

অস্থায়ী চাকুরিজীবী পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান টিটো বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করে আসছি। কিন্তু আমাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ২০১৮ সালে বাতিল হওয়া নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমাদের দাবি বিভিন্ন অফিসে যারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছে তাদেরকে স্থায়ীভাবে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, 'তারা যেটা করছে সেটা অনৈতিক। ডে লেবার মানে, এদের দিয়ে আমরা দৈনিক কাজ করিয়েছি। কোনো নিয়োগপত্র নাই। নেত্রী বলেছেন তোমরা ছাত্রলীগ করো মানে তোমরা চাকরির প্রত্যাশা করবে না, চাকরি তোমাদের নিজের যোগ্যতায় পেতে হবে। আমাকে প্রশাসন চালাতে হবে আইন-কানুন দেখে নিয়ম মেনে, এর বাইরে আমরা যেতে পারব না। এখানে যাদের যোগ্যতা আছে তারা আবেদন করবে। আমি আশা করি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।'

ইত্তেফাক/এসটিএম