যে কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে ইবি ক্যাম্পাসে

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৮:০৮

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। নষ্ট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য। তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের সামনে ময়লার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেওয়া  হয়েছে। এছাড়া, মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন, অনুষদ ভবন, ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন ও ব্যবসায় প্রশাসন ভবনসহ অন্তত ৮-১০ জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবারের প্যাকেট-উচ্ছিষ্ঠ, একাডেমিক ও ল্যাবের ময়লা আর্বজনাসহ প্লাস্টিকের প্লেট, গ্লাস, চিপসের প্যাকেটসহ অপচনশীল সব আবর্জনা ফেলে ছোট-বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি আবাসিক হলের ডাইনিং এর আবর্জনা ফেলা হয় হলগুলোর পিছনে। বিভিন্ন দোকানপাট থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হয়। যা থেকে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। ছবি: ইত্তেফাক

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হলেও বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত। নেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন। অল্প যে কয়টি ডাস্টবিন আছে তা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় তাতে ময়লা উপচে পড়তে দেখা যায়। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান ডা. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে শ্বাসকষ্টসহ মানুষের হাঁচিকাশি, বুক জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ বের হলে অনেকেরই বমি ভাব, পেটে সমস্যা, মাথা ঘোরা সহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান টিপু সুলতান বলেন, ময়লা-আবর্জনা পুড়িয়ে না দিলে সেগুলো ছড়িয়ে যায়। আবার ভ্যানে নিতে গেলে রাস্তায় পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, লোকবল সংকট রয়েছে। যেখানে একশো থেকে দুইশো লোক প্রয়োজন সেখানে পনেরো থেকে বিশজন লোক দিয়ে এতো কাজ করানো দূরহ ব্যাপার।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সমস্যা সমাধানের। করোনা সংকটের কারণে বর্তমানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস কার্যক্রম চালু হলে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম