'চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম'

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০২

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা এবং গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাছিম আখতার।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) চাঁবিপ্রবি আয়োজিত ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে মাতৃভাষা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জুম প্লাটফর্মে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. নাছিম আখতার বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা এবং গবেষণায় মাতৃভাষায় চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। কেবলমাত্র মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা এবং গবেষণায় গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব প্রদান করা সম্ভব। বিশ্বের যে সমস্ত দেশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে এগিয়ে রয়েছে তারা প্রত্যেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা এবং গবেষণায় মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দিয়েছে।

এ সময় উদাহরণস্বরূপ চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং স্লোভেনিয়ার কথা উল্লেখ করেন উপাচার্য।

ওয়েবিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা অর্জন একই সূতোয় গাঁথা। কৃষিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আমরা বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতকরণে যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বলছি তা কেবলমাত্র মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও গবেষণা চর্চার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। এজন্য প্রধানমন্ত্রীও বিজ্ঞান ও গবেষণা চর্চা বাংলা ভাষায় করার প্রতি জোর দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. রশীদুল হাসান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা এবং গবেষণায় মাতৃভাষার চর্চা যেমন জরুরি, ঠিক একইভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাতৃভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। প্রযুক্তিকে যদি আমরা সাধারণের নিকটে পৌঁছে দিতে চাই তবে তা মাতৃভাষার মাধ্যমেই করতে হবে। অন্যদিকে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভাষা সংরক্ষণের মাধ্যমে তাকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সেকশন অফিসার মো. মেহেদী হাসান। কারিগরি সহায়তায় ছিলেন এমজেড রহমান ও মো. আরিফুল ইসলাম।

ইত্তেফাক/এসটিএম