সন্তানের স্থূলতার সমস্যায় কী করবেন 

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২২, ১৭:২৯

প্রতিটি বয়সের একটি আলাদা সৌন্দর্য আছে। কিন্তু বয়সের তুলনায় ওজন অনেক বেশি হলে সেই সৌন্দর্য হারিয়ে যায়। শিশুদের ছুটন্ত শরীরে মেদ জমা কিংবা মুটিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। বরং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীর খানিকটা ভারী হওয়া, মেদ জমা—এটাই স্বাভাবিক। সাম্প্রতিককালে শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বেড়েছে। যাকে বলা হয় অবেসিটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)- এর একটি গবেষণা বলছে, ২০২০ সালে ৫ বছরের কম বয়সী তিনজন শিশুর একজনের মধ্যে স্থূলতার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মূলত কোভিড পরিস্থিতিই এ সমস্যার অন্যতম কারণ। দিনের পর দিন ঘরবন্দী থাকা, স্কুল বন্ধ থাকায় অনলাইনে পড়াশোনা এবং মাঠে খেলাধুলাও বন্ধ থাকায় বাচ্চাদের ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে দ্রুত গতিতে। 

করোনাকালে ঘরবন্দী থাকা, স্কুল বন্ধ থাকায় অনলাইনে পড়াশোনা এবং মাঠে খেলাধুলাও বন্ধ থাকায় বাচ্চাদের ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে দ্রুত গতিতে

স্থূলতার যত কারণ 
বংশগত কারণে কমবয়সে বাড়তে পারে ওজন। মা-বাবা কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য স্থূলকায় হলেও সন্তান স্থূল হতে পারে। অবেসিটি বা স্থূলতার সমস্যা আছে কিনা, তা বোঝার একটি পদ্ধতি হলো ‘বডি মাস ইনডেক্স’ (বিএমআই)। কোনো শিশুর বিএমআই যদি ৩০-এর ওপর থাকে, সেক্ষেত্রে ধরা যেতে পারে যে, সেই শিশু স্থূলতার সমস্যায় ভুগছে। 

স্থূলতায় হবে যত রোগ 
ছোটবেলা থেকে অবেসিটি গ্রাস করলে শরীরে বিপাক হার কমতে থাকে। ফলে ইনসুলিন সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। ডায়াবেটিস, পিসিওডি (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম), হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, ঘুম ঘুম ভাব, ঘুমের মধ্যে নাকডাকার মতো নানা শারীরিক সমস্যা ছাড়াও চর্বি জমে লিভারের স্থায়ী সমস্যা, অল্প বয়সে দাড়ি-গোঁফ ওঠা বা মেয়েশিশুদের মাসিক হওয়া, ঘাড় ও ভাঁজে ভাঁজে কালো দাগ হতে পারে। 

সন্তানকে  ফাস্টফুড, চকলেট, আইসক্রিম এবং চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে দিতে হবে

স্থূলতা থেকে মুক্তির উপায়

  • প্রথমেই শিশুর জীবনাচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রয়োজনীয় কায়িক পরিশ্রমের ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকটায় নজর রাখতে হবে। খেলাধুলায় সন্তানের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। টেলিভিশন, ভিডিও গেম আর কম্পিউটারের বিষয়ে অনাগ্রহী করতে হবে, এগুলোর মন্দ দিক কী কী, সেটা সন্তানকে বুঝাতে হবে।
  • অধিক শর্করাযুক্ত খাবার, যেমন বেশি ভাত, মিষ্টি, কোমল পানীয়, জাঙ্ক ফুডে আসক্তি শিশুর স্থূলতার কারণ। তাই ফাস্টফুড, চকলেট, আইসক্রিম এবং চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে দিতে হবে।
  • আঁশযুক্ত খাবার, যেমন শাকসবজি, ফলমূল খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। অনেক শিশু ফল বা শাকসবজি খেতে চায় না। সেক্ষেত্রে ফল দিয়ে স্মুদি বানিয়ে দিতে পারেন। এ ছাড়া শাকসবজি দিয়েও বিভিন্ন রকম মুখরোচক খাবার বানিয়ে দিতে পারেন সন্তানকে। 

 

 

ইত্তেফাক/আরএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন