আমরা যারা রোগী দেখি তারা যে শুধু রোগীর চিকিৎসা করি তাই নয়, অনেক সময় রোগীরা এমন সব সমস্যা নিয়ে আসেন যে ডাক্তারই বিপদে পড়ে যান। বছর ২৫ বয়স হবে ছেলেটার। এখনো বেকার। চাকরি খুঁজছেন। দেখতে মোটামুটি খারাপ নয়। তার একটাই সমস্যা স্মৃতি ভুলে থাকতে চায়। একটা ভালো ওষুধ লিখে দিতে হবে। এ সব সমস্যা আমি খুবই কেয়ারফুলি হ্যান্ডেল করি।
মনোযোগ দিয়েও শোনার চেষ্টা করি। আমার পিএইচডি প্রোগ্রামের টপিকস ছিল ‘সাইকো-সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার্স অ্যামং দ্য বাংলাদেশি ইয়ুথস’। এ কারণে ‘কাউন্সিলিং ইজ মাই পার্ট অব প্রাকটিস’। ছেলেটির সমস্যা—তার এক জনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। কথা ছিল একে অপরে জীবন সঙ্গী হবে। ছেলেটি দরিদ্র ঘরের। বাবার একটি ছোটখাটো কনফেকশনারি আছে। কোনো রকমে সংসার চলে। ওরা একটি নিম্নমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। দুপুরে না খেয়ে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ছেলেটি মেয়েটির জন্য টুকিটাকি কিনে দিত। ক্লাসের প্রজেক্ট করে দিত। ক্লাস শেষে ধানমন্ডি লেকপাড়ে চটপটি খেত, সময় কাটাত। মেয়েটির বয়স ২০/২১ হবে। এখন সে ছেলেটির কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। মেয়েটির বাবার কাছেও কাকুতি-মিনতি করেছে ছেলেটি। লাভ হয়নি। অনেক লম্বা স্টোরি।
ছেলেটি এখন চায় ঐসব আবেগময় স্মৃতি ভুলতে। পয়সা নেই তাই গাঁজা ধরেছে। কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না মেয়েটিকে। শেষমেশ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। আমি ছেলেটাকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। বললাম, মেয়েটিকে কি আমার চেম্বারে আনা সম্ভব? এসব ক্ষেত্রে কারণটা জানার চেষ্টা করি। ছেলেটি বলল—কোনো লাভ হবে না। মেয়েটি অত্যন্ত ডেসপারেট। এখন বলছে, তখন মেয়েটির বয়স কম ছিল। আগে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি রাখবে না। ঐ সবই ছিল আবেগ। বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল নেই। সে কোনোভাবেই ডাক্তারের চেম্বারে আসবে না।
এই হচ্ছে দরিদ্র ছেলেটির পরিণতি। আমরা যারা কাউন্সিলিং বিদ্যা চর্চা করি তারা সাধারণত এসব জটিল বা কম্পিলিকেটেড ইস্যুতে কাউন্সিলিংয়ের পাশাপাশি একটি মধ্যম মাত্রার এন্টিডিপ্রেসিভ মেডিসিন দেই। এক মাস পর আসতে বলি। টাইম নিতে বলি। কারণ টাইম হচ্ছে বেস্ট রেমিডি। ছেলেটি এক মাস পর আসল। এ নিয়ে পরে এক দিন স্টোরিটা বলা যাবে। তবে তরুণদের প্রতি আমার অনুরোধ—এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোনো ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। গাঁজা, মাদক কোনো সমাধান নয়। আর বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক থাকবেন। আজকাল স্বার্থপর অনেক ভুয়া বন্ধু যেখানে-সেখানে ওত পেতে আছে। এদের থেকে সাবধান থাকবেন।
লেখক: চুলপড়া, অ্যালার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশে

