খাবার থেকে অ্যালার্জি হলে কী করবেন

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২২, ০৮:১৪

অ্যালার্জির কারণে অনেকে তাদের প্রিয় খাবার ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, গরুর মাংস, ডিম, বেগুন ভর্তাসহ নানা ধরনের খাবার একেবারে ছেড়ে দিয়েছেন। অ্যালার্জির রোগীদের কাছে এসব খাবার অনেকটা আতঙ্কের মতো। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি আসলেই এসব খাবারে কোনো অ্যালার্জি আছে কি না। অ্যালার্জি এক ধরনের চরম অস্বস্তিকর সমস্যা।

অ্যালার্জি থেকে শরীর চুলকায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাকা চাকা হয়ে ফুলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে লাল হয়ে যায় এবং চুলকানির তীব্রতা এতই ব্যাপক হয় যে, আক্রান্ত ব্যক্তির সহ্যের ক্ষমতা পর্যন্ত থাকে না। তবে এসব অ্যালার্জির জন্য রোগীরা কার কাছে যাবেন তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগী নিজেই বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নেন। একের পর এক এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে থাকেন। শুধু খাবার থেকে নয়, ধুলাবালি, ডাস্ট, কেমিক্যাল, হেয়ার ডাই, কসমেটিক থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। তাই প্রথমে জানতে হবে কী কারণে অ্যালার্জি হচ্ছে। এর পর কারণ অনুযায়ী অ্যালার্জির চিকিৎসা দিতে হবে।

প্রথমত, আক্রান্ত ব্যক্তি রাতে একটা করে সিডেটিভ এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ট্যাবলেট এবং সকালে একটা করে নন সিডেটিভ এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে তীব্র অ্যালার্জির ক্ষেত্রে অনেক এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ কার্যকর নয়। এসব ক্ষেত্রে স্টেরয়েড পর্যন্ত দিতে হতে পারে। পাশাপাশি যাদের বারবার অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হয় তাদের গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, ডিম, বেগুন ইত্যাদি খাবার পরিহার করা উচিত। এমনকি সিনথেটিক কাপড় থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। তাই শিশুকে যথাসম্ভব সুতির কাপড় পরানো উচিত।

এছাড়া বারবার অ্যালার্জি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষানিরীক্ষা করে নিতে হবে। এছাড়া যাদের খাবারের অ্যালার্জি আছে তাদের টিনজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, তেলেভাজা খাবার ও সফটড্রিংকস না খাওয়াই ভালো।

লেখক: চুলপড়া, অ্যালার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষ

ইত্তেফাক/এমআর