সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢাকার সাভার সন্নিকটে আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে শতাধিক শ্রমিক। এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাজরীন ফ্যাশন লিঃ’র অগ্নিকান্ডটি কোন দুর্ঘটনা নয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মামলাও হয়েছে। এখন সুষ্ঠু বিচার করা একান্ত জরুরি।
কাওসার জাহান
কে কে আই হসপিটাল রিয়াদ, সৌদিআরব।
এই মৃত্যু উপত্যকা কি বাংলাদেশ? যেখানে আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যায়। সম্প্রতি ঢাকার সাভারের সন্নিকটে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অঙ্গার হয়েছে দেশের খেটেখাওয়া মানুষ, তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশে খেটেখাওয়া মানুষ কৃষক ও যারা কলকারখানার শ্রমিক। তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তারা সাদা মনের মানুষ। আর সাদা মানুষের উপর চিরকাল শোষণ করেছে উঁচুতলার মানুষেরা। গার্মেন্টস শিল্প আমাদের দেশে আয়ের একটি বিশাল উত্স। সারা বিশ্বে সমাদৃত এই শিল্প। বিশেষত কানাডা ও আমেরিকা এর প্রধান আমদানিকারক দেশ। দরিদ্র শ্রমিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা স্বার্থান্বেষী গার্মেন্ট মালিক ও ফ্লাইওভার নির্মাণে নিযুক্ত অসত্ লোকদের বিরুদ্ধে নিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা। অন্যদিকে বাংলাদেশে যে সমস্ত ছোটখাটো ও বড় গার্মেন্টস রয়েছে সেগুলো ভালোভাবে তদারকি করে দেখতে হবে যে সেখানে কি কি নিরাপত্তাগত ক্রুটি রয়েছে।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
স্যানিসাইড, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
এ মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার করতে হবে। একই দিনে চট্টগ্রামের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে পড়লে অন্তত ১৫জন মারা যান। মর্মান্তিক এই দুইটি দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের যথাশীঘ্র সুস্থতা কামনা করছি। গত শনিবার আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ধসে যাওয়াকে দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকাণ্ড বলা হলে অত্যুক্তি হবে না। প্রতিটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সময় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা গ্রহণের নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জনের লাশ পাওয়া গিয়েছিল কারখানার দরজার সামনে। অগ্নিকান্ডের সময় কারখানায় তালা লাগিয়ে শ্রমিকদের আটকিয়ে রাখার ঘটনা এটি প্রথম নয়। ২০০৬ সালে একটি গার্মেন্টেসের অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের তালা লাগিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে মারা গিয়েছিল ৫৫ জন। অগ্নিকান্ডের ফলে তাদের প্রাণ সংশয় দেখা দিলেও ফটকে তালা মেরে শ্রম দিতে বাধ্য করে প্রাণ বাঁচার অধিকারকে হরণ করা হয়। গার্মেন্টস মালিকদের ভাব দেখে মনে হয় তারা নামমাত্র মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জানমাল পর্যন্ত কিনে ফেলেছেন। আমরা চাই শনিবারের অগ্নিকাণ্ডকে হত্যাকান্ড হিসাবে চিহ্নিত করে মামলা করা হোক।
ফারুক আহমেদ
দৈনিক আমাদের রাজশাহী, রাজশাহী।
সম্প্রতি আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশন লিঃ-এ যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। যেকোন দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই নানারকম কথা বলা হয়। কিছুদিন পর সেটা বিলীন হয়ে যায়। তাই আমরা আশা করবো বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে না নিয়ে এখনই গুরুত্ব দেয়া দরকার। বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণে তৈরি পোশাক শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সুতরাং আমরা চারদিকে মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে রক্ষা চাই।
মো. মনির হোসেন, মনির বুক হাউস।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বাংলাদেশের গার্মেন্ট্স শিল্প ধ্বংসের চক্রান্তেরই একটা অংশ হিসেবে আমার কাছে মনে হয়। গার্মেন্টস মালিকরা শিল্প শ্রমিক ও কর্মচারিদের অনেক দাবি-দাওয়া পূরণ করছেন না, সেটি যেমন ঠিক। তেমনি এটাও ঠিক বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে নষ্ট করে দিতে তত্পর একটি গোষ্ঠী। ভারতীয় চক্রান্ত আমাদের বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে দিতে প্রতিনিয়তই অপতত্পরতা যে চালাচ্ছে, আশুলিয়ার দুর্ঘটনা সেটির অংশ কিনা তা দেশপ্রেমিক সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবিয়ে তুলেছে। সর্বোপরি দেশে আইনের শাসনের অনুপস্থিতি এবং দোষী ব্যক্তিরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়া, বাংলাদেশের কল- কারখানাগুলোই শুধু নয়, প্রায় বসবাসের জন্য বাড়িসহ অধিকাংশ ভবনই বিল্ডিং কোড মানছে না। ফায়ার এক্সিট অধিকাংশ ভবনেই নেই। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যদি মানবাধিকার পদদলিত হয়, তখন দেশের নাগরিকরাও ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অভ্যস্ত থাকে না। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন যা ঘটে চলছে, তা সমাজে বিদ্যমান অরাজক অবস্থা থেকে ভিন্নতর কোন কিছু নয়। এটি মূলত একটির সাথে আরেকটি জড়িত। পত্রিকার রিপোর্টে এসবই অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম বলে জানা গেছে। রাষ্ট্র ও সরকার যখন নাগরিকের জানমালের প্রতি নিরাপত্তা দিতে বদ্ধপরিকর হবে, তখন এখানের নাগরিকেরা পরস্পরের প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল ও মানবিক হবে।
অধ্যাপক ওমর ফারুক
সেক্রেটারি জেনারেল, ইন্টারন্যাশনাল বুকফেয়ার সোসাইটি ইউকে, বাকিংহাম প্যালেস রোড, লন্ডন এসডব্লিও১ডব্লিও ৯এসইউ।
সম্প্রতি আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পোশাকশিল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া শতাধিক তাজাপ্রাণ, যারা জীবন-জীবিকার জন্য নিশ্চিন্তপুরে এসেছিল, নিশ্চিন্ত হতে। শেষাবধি নাম পরিচয়হীন হয়ে, শেষ ঠিকানা হলো জুরাইনের কবরস্থানে। তাজরীন ফ্যাশানের এই ঘটনা “আশুলিয়া ট্রাজেডী” হয়ে থাকবে স্বজন হারানোদের কাছে, থাকবে দেশ ও জাতির ইতিহাসে। অথচ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে যে শোক ও মাতম সৃষ্টি হয়েছে তখন রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি শুনলে মনে হয় অগ্নিকাণ্ডে অঙ্গার হয়ে যাওয়া লাশের প্রতি আমরা মশকরা করছি। অতীতেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা না ঘটে, তার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে, প্রশাসনিক দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল অবকাঠামো দূর করতে হবে। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে। নিরাপত্তার সব ধরনের সতর্কমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বহির্গমন পথগুলো উন্মুক্ত রেখে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চৌকষ উদ্ধার কর্মী গঠন করতে হবে। বাংলাদেশে ঘরশত্রুবিভীষণের অভাব নেই, তাই নাশকতাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশ্ব বাজারের বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ইতিমধ্যে চুক্তি বাতিল করছে, নাশকতার সৃষ্টিকারীদের লক্ষ্য যদি এভাবে পূরণ হয়, তাহলে বলতে হবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই নাশকতার পথ আরো দীর্ঘ হয়ে, কৃষি ও পোশাকশিল্প ব্যবস্থা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে প্রাণসঞ্চার করেছে, তা ব্যাহত হয়ে দেশকে অন্ধকার বিবরে টেনে নেবে। রাজনীতির সকল বিতর্ক ভুলে, সকলকে জাতীয় এই সমস্যাকে দূর করতে হবে এবং দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
মুরাদ হোসেন, মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর।
গার্মেন্টস শিল্প কারখানায় সামপ্রতিককালের পর পর কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে সেগুলো হলো ক) নাশকতামূলক কর্মকান্ড, খ) আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের অপ্রতুলতা, গ) বিপদকালীন জরুরী নির্গমনের ব্যবস্থা না থাকা, ঘ) মালিক পক্ষের উদাসীনতা। গার্মেন্টস শিল্প কারখানার মত দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-শিল্প খাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের দায়-দায়িত্ব্ব সরকার, সরকারের বিভিন্ন প্রকার গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর বর্তায়। ইতোমধ্যে রাজধানীর উপকণ্ঠে আশুলিয়া থানার ডেবনয়ার নামের পোশাক কারখানায় ঐ কারখানারই এক নারী শ্রমিক বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে আগুন ধরানোর ঘটনা উক্ত গার্মেন্টস কারখানার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্তপূর্বক ধরা পড়েছে। তার সাথে জড়িত সন্দেহ উক্ত কারখানার পদস্থ একজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। কাজেই আভ্যন্তরীণ অত্যাধুনিক সিকিউরিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস শিল্প কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং পাশাপাশি সরকারকে সজাগ থেকে অত্যন্ত কঠোরহস্তে এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে।
সাধারণরত এ সকল শিল্প কারখানায় অনেক ক্ষেত্রে অ্যাক্রিলিক ইয়ার্ন ও ফ্লিজ ফেব্রিক, যা অতি দাহ্য পদার্থ বিদ্যমান থাকে। সেক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট এলাকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে পাক্ষিক এবং মাসিক পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আদেশ, উপদেশ ও নির্দেশ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি তদন্তে দেখা গেছে অনেক গার্মেন্টস শিল্প কারখানায় আপত্কালীন নির্গমনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। যে দু’-একটার অস্তিত্ব আছে সেগুলোও কর্তৃপক্ষ সিলগালা মেরে রেখেছে। কাজেই এব্যাপারে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগকে সত্ব্বর নিতে হবে।
ভুঁঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
আরমান ভুঁঁইয়ার বাড়ী, চৌমুহনী
হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
দেশের গার্মেন্টস শিল্পের ইতিহাসে সম্প্রতি ঘটে গেল সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ দিতে হলো। অভাবের তাড়নায় কাজ করতে এসে জীবন দিতে হলো এতগুলো তাজা মানুষকে। পুরো জাতি আজ শোকাহত। বিশ্বের তৈরি পোশাক শিল্পে উত্পাদনশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। তৈরি পোশাকের বদৌলতে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে বহু আগেই। দেশের সম্ভাবনাময় খাতকে ধ্বংস করতে এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে আমি মনে করি। দেশের ভিতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এই উত্পাদন খাতকে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে বহু আগে থেকেই। কি কারণে তাজরীন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হলো তা খুঁজে বের করতে হবে সরকারকে। জীবনের ক্ষয়ক্ষতি আর কোন দিনই পূরণ হবার নয়। এই সত্যটি আমাদের সবার জানা। এইসব ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রতিদিনই হচ্ছে। সরকারের দেয়া সামান্য টাকা কি একটি মানুষের জীবনের মূল্য?
মো. লিটন গাজী
দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া ডেমরা, ঢাকা-১২০৫।
প্রতিবছর আমাদের দেশে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়-ক্ষতি শুধু পোশাক শিল্পে কেন বড় বড় অফিস আদালত, মিল কারখানা, বড় শহরে ঘনবসতিপূর্ণ বসতি আর পাড়া মহল্লায় হরহামেশাই অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতি বছর দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনষ্ট হতে চলেছে। তাছাড়া মানুষের জীবনের মূল্য হিসাবেরই বাহিরে। আল্লাহ পাকই জানেন একজন মানুষের জীবনের দাম কত? কাজেই মালামালের ক্ষতি হলে তা কোন না কোনভাবে পুষিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু মানুষের জীবনের ক্ষয়ক্ষতি আর কোন দিনই পূরণ হবার নয়। এই সত্যটি আমাদের সবার জানা সত্বেও হরহামেশা আমাদের ঐ সব ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রতিদিনই হচ্ছে। এর জন্য সরকারিভাবে যত্সামান্য ক্ষতিপূরণ আর আশ্বাস ও তদন্ত কমিটির ঘোলা পানির রিপোর্ট যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি। কাজেই এর আশু প্রয়োজন হলো প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকার পক্ষ, মালিক পক্ষ এবং শ্রমিক পক্ষকে সমন্বয় সাধন করে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করা।
আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী হিফজু
প্রচার সম্পাদক মানব কল্যাণ ইসলামী সংস্থা
হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২।
গার্মেন্টস মালিক গরীব শ্রমিকদের ঘামের বদোলতে বিলাসী জীবনযাপন করেন। সেই শ্রমিকদের তাদের ন্যায্যমূল্য দিতে তারা কার্পন্য করেন। কিন্তু শ্রমিকদের ভয়াবহ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে তাদের এতোটুকু কার্পন্য নেই। সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, তাজরীন ফ্যাশন কারখানা তৈরিতে নির্মাণ বিধি একেবারেই মানা হয়নি। এমনকি ফায়ার সার্ভিস শর্ত মানা হয়নি। এমন একটি কারখানা কিভাবে উত্পাদনে অনুমতি পায়? দেশের অধিকাংশ শিল্প কারখানার অবস্থা একই রকম। সরকারের উচিত দ্রুত এরকম প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন
নারচী, সারিয়াকান্দি, বগুড়া।
আশুলিয়া পোশাক কারখানায় যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এটা এক ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা বটে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সনাক্ত করা দরকার। এখন সরকারের উচিত দোষীদের শাস্তি দেয়া।
মেজবাহ উদ্দিন সেলিম, শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর।
সাভার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন পোশাক শিল্পে গত শনিবার যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে শেষ হয়েছে এটি একটি নিঃসন্দেহে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আগুন লাগার ঘটনায় শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ আছে সেটা বহুদিনের। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ের এ মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে চট্টগ্রামের ৭ জন। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার গার্ডার ধসে মৃত্যু হয়েছে তাদের। এসব মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাকী সরকার?
জাহাঙ্গীর খান বাবু, চেয়ারম্যান,
বিজয় উল্লাসে বিক্রমপুর, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।
আশুলিয়ায় তাজরীন পোষাক শিল্পে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে এটা একটি মর্মাহত বিষয়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেদিকে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
নুসরাত ইয়াসমীন টুম্পা
এসএসসি পরীক্ষার্থী
মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজ মিরপুর, ঢাকা।
আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ড ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ধসে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনায় মঙ্গলবার সারাদেশে জাতীয় শোকদিবস পালন করা হয়েছে। তাজরীন গার্মেন্টসে যে ঘটনা হয়েছে তা দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি, যা পূরণ হবার নয়। আমরা চাই তাদের পরিবারের জন্য সঠিক আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করা হোক। তাই এই ক্ষতির কারণে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক, অগ্নিকান্ড ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলার সদাসর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
কাউসার আকন্দ
চীফ রিপোর্টার, টাইমস্ আই বেঙ্গলী ডটকম
মতিঝিল, ঢাকা।
দেশের বহু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অগ্নি দুর্ঘটনার প্রশিক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক আমরা আসলে কোন দেশে বসবাস করছি? যেখানে আগুনে পুড়ে শত শত মানুষ মারা যায় তাদের লাশও পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় তাদের পুড়ে যাওয়া ছাই। ফ্লাইওভারের চাপে পড়ে আমরা জীবন দিচ্ছি। আমাদের ভবন ধসে পড়ে যাচ্ছে নিত্য নৈমিত্তিকভাবে, লঞ্চে ডুবে প্রতিনিয়ত মরছে হাজার হাজার মানুষ, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে নিত্যদিন, সংবাদপত্রে ছবিসহ খবর ছাপা হচ্ছে, প্রধান শিরোনাম হয়ে উঠছে মৃত্যু। এর পরেও আমাদের বলা হয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তদন্তের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অথচ এই পোশাক শিল্পে বিশ্ববাজারে এখন চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। শীর্ষ স্থানটা দখল করা এখন সময়ের ব্যাপার। আমার জানা মতে, ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে ২০১২ইং পর্যন্ত ২২৪টি গার্মেন্টস আগুনে পুড়েছে। ২০০৬ইং সালে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধ্বংস হয়। ২০০৮ইং সালে হামিম গ্রুপ, ১৯৯০ সালে মিরপুরের সারাকা দুর্ঘটনায় অনেক নিহত হয়েছে। আমাদের দেশে আয়ের অনেকগুলো পথ, তার মধ্যে পাট, চা, চামড়াসহ বর্তমানে ছিল পোশাক শিল্প। সেটা আমাদের দেশের জন্য অহংকারের একটি বিষয়। দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৭৫% আসে এই সেক্টর থেকে।
আমেরিকার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট চুক্তি বাতিল করেছে। অনেকটা কপাল পুড়েছে গার্মেন্টসের। আমরা মনে করছি এটা কোন ঈর্ষার কারণেও হতে পারে। যেটাই হোক, এবার সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন বর্তমান সরকার-এটা দাবি আমাদের। যেহেতু নিশ্চিন্তপুরের কান্নার শব্দ এখনো থামেনি তাই আমি বলবো ঢাকার সব গার্মেন্টসে অগ্নিনির্বাপক চেক করা এবং এর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। শ্রমিকদের অথনৈতিক বিষয়টি জরালোভাবে দেখা, সবগুলো কলাপসিল গেট বন্ধ না রাখা, সকল গার্মেন্টেসের মালিককে শ্রমিকের আইনকে সঠিকভাবে পালন করতে হবে। পরবর্তীতে আগুন লাগতে না পারে সে বিষয়ে সর্তক থাকা, দেশের মানুষের নৈতিক আচরণকে পরিবর্তন করতে হবে। সুতরাং সদাসর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য।
হাসান মো. হোসাইন চৌধুরী
ইয়ং ওয়ান হাইট্রিক এন্ড স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড ইন্ডাস্ট্রিজ
ইপিজেড, সাভার।
নিশ্চিন্তপুরের ভয়াবহ ঘটনায় মালিক পক্ষ থেকে শুরু করে সরকার উভয় পক্ষই চিন্তিত বলে আমাদের মনে হয় না।কারণ আমাদের সাধারণ জনগণের যে কোন ঘটনায় আহাজারি করা ছাড়া আর কিছুই করার ক্ষমতা নেই। চিড়িয়াখানার হিংস্র প্রাণীকে আক্রমণের ভয়ে লোহার খাঁচার তালা মেরে বন্দি রাখা হয়। পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাই-বোনেরা এতই কি হিংস্র আর তথাকথিত সমাজপতিদের চাইতেও বড় চোর, যার কারণে কর্মস্থলে তাদেরকে তালাবন্দি করে রাখা হয়? যদি তাই হয় তবে সরকারি আধাসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে সরকারের উচিত হবে গেটে তালা মারা এবং ছুটির সময়ে খুলে দেয়া।
লুত্ফর রহমান, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
গত মঙ্গলবার সারাদেশে জাতীয় শোক পালন করা হয়েছে। শুধু শোক দিবস ও জাতীয় পতাকা অর্ধনিমিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিবারের প্রতি এখন যথাযথভাবে সাহায্য সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেশের বড় দু’দলের।
নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ, মিরপুর-১, ঢাকা।
সাভার উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে চলছে পোশাক তৈরির কাজ। চলছে নানা গলিগলিতে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান। এ সমস্ত কারখানার মালিকরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কথা ভাবেন না। তারা কারখানা নির্মাণের সময় শিল্প কারখানার আইন মানেন না। এছাড়া শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথাও ভাবেন না কখনো। ফলে নিরীহ শ্রমিকদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। সাভারে এখনো চলছে নানা শোকের ছায়া। অনেকে হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। তাই আমি বলবো, প্রত্যেক গার্মেন্টস মালিকদের শ্রমিকের ব্যাপারে অনেক আন্তরিক হতে হবে। তাদের প্রতি সহানুভূতির আচরণ দেখতে হবে।
আবদুল মালেক মিয়া
সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস, মিরপুর, ঢাকা।
এই ঘটনা স্মরণকালে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম, এই গার্মেন্টস কারখানা একেবারে পল্লীর মধ্যে স্থাপিত। কারখানার তিনটি সিঁড়ি ছাদে গিয়ে মিলিত হলেও নিচের দিকটা এসে মিশেছে নিচতলায়। আর এই নিচতলার পুরোটা ছিল গুদাম বা ওয়্যার হাউজ। সেজন্য আগুন লাগে তাড়াতাড়ি। আমরা জানি, আমাদের এই পোশাক শিল্প বিশ্বের অনেক দেশে চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে আছে কানাডা ও আমেরিকা। ইতিমধ্যে আমেরিকার ওয়ালমার্ট নামে একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান চুক্তি বাতিল করেছে। সুতরাং বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য অনেকটা অর্থনীতি ধসের পর্যায়ে বলা যায়। তাই আমরা চাই এখনই দেশের সব গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব রকম তদারকি করা হোক।
এসকে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন, সাভার, ঢাকা।
আমাদের সামনে শুধু এখন মৃত্যুর বিভীষিকা। মানুষ মানুষকে নির্দয়ভাবে মারছে যা সত্যি কষ্টদায়ক বিষয়। শত শত আগুনে দগ্ধ হয়ে পুড়ে মরছে নানা দুর্ঘটনায়। এত শোক আমরা কীভাবে সইবো? কীভাবে মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের বুঝ দেয়া যাবে তা কারোরই জানা নেই। তাই আমাদের প্রশ্ন আর কত পোশাক শ্রমিককে এভাবে প্রাণ দিতে হবে?
মো. শওকত আলী, ডিওএইচএস, মহাখালী, ঢাকা।
সেই ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এদেশে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৮০০ লোকের প্রাণহানি হয়েছে। এর দায় কার? অতি সম্প্রতি নিশ্চিন্তপুরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেল এর দায়ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সরকার এড়াতে পারে না। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে কত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল তার হিসাব কে রাখবে। অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটলো। একটি মৃত্যুর দাম লাখ টাকা? ধরে নিলাম হতভাগ্যদের কেউ কেউ অর্থ সহায়তা পাবে কিন্তু এতেই কি একটি পরিবারের সমস্যার সমাধান হবে? এখনো কি কর্তৃপক্ষ ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে? তাদের কি কোন শাস্তি হবে না? এদেশে আইন কেবল বিরোধী দল নিধনে। সবার জন্য আইন সমান হলে এই ট্র্যাজেডি আমরা এড়াতে পারি। অতিদ্রুত এ ব্যাপারে সংসদে বিল আনুন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
সৈয়দ বজলুল করিম, ধানমন্ডি, ঢাকা।
গত শনিবার রাতব্যাপী আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে আগুন লাগার ঘটনার শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস সহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মিডিয়ার এই খবর গুরুত্ব পেয়েছে। তাই আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
মাসুম আহাম্মদ
সম্পাদক,সাপ্তাহিক শিকড় সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত তাজা প্রাণহানি জাতির জন্য মোটেই শুভকর নয়। ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বা সাহায্য নয়, এ ধরনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড যেন আর ঘটে সেদিকে সরকারের আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। সরকারের অবশ্যই পরিপূর্ণ নিয়মনীতি থাকা আবশ্যক। সে নীতিগুলো সঠিকভাবে পালন হবে কিনা সে বিষয়ে মনিটরিং সেলের ব্যবস্থা করা উচিত। যেমন অগ্নিকাণ্ডের জন্য ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম, সফল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফায়ার ফাইটিং প্রশিক্ষণ, মেডিক্যাল ব্যবস্থা, চিলড্রেন কেয়ার, বিকল্প সিঁড়ির ব্যবস্থা ইত্যাদির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
মন্জু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা।
সম্প্রতি আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে শতাধিক তাজা প্রাণ। এটা সত্যি দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আজ সারাদেশে শোকের মাতম উঠেছে। ঢাকা শহরে এমনি বহু গার্মেন্টস রয়েছে যেগুলোর কোন নিয়ম নেই। বহু মালিক তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে শ্রমিকের দিকে তাকান না । আমরা চাই এর সুষ্ঠু বিচার এবং আগামীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ, মিরপুর-১, ঢাকা।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানায় যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা অনেকটা এদের ইতিহাস বটে। যদিও এর আগে ১৯৯০ সালের পর থেকে অনেকগুলোর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে এ ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা চাই এর পরিপূর্ণ সমাধান।
মোস্তানসিরুন, ধানমন্ডি, ঢাকা।
দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে সুষ্ঠু তদারকি দরকার এই মুহূর্তে নতুবা এর গলদ ধরা যাবে না। তাজরীন ফ্যাশন লিঃতে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটে বহু লোকের মৃত্যু ঘটেছে এটা কখনই মেনে নেয়া যায় না। আমরা নিহত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাই এবং সরকার পক্ষের থেকে দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থা আশা করি।
আইরিন সুলতানা সন্জু, চট্টগ্রাম।
আশুলিয়ার যে গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা আমাদের দেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। যে ক্ষতি আর পূরণ হবার নয়। তবে আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য যথাসম্ভব আর্থিক সহযোগিতা।
নার্গিস, লালবাগ, ঢাকা।
মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটার জন্য আমি মালিকপক্ষকে দায়ী করছি। কারণ তারা গার্মেন্টস চালায় শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের জন্যে, তারা শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে কিছুই চিন্তা করে না। তা না হলে এরকম জঘণ্য ঘটনা ঘটতো না। সরকারের কাছে আবেদন এই পরিস্থিতির জন্য যারা জড়িত তাদেরকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
শিহাব আহমেদ, ভালুকা বাজার, ময়মনসিংহ।
যাদের মৃত্যু হয়েছে তার দায় সরকার এবং গার্মেন্টস মালিককেই নিতে হবে। এজন্য আইন আছে, কিন্তু সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। এর দায় সরকারের। ১১০ জনের মৃত্যুর দায়ে ফ্যাক্টরীর মালিককে ধরে শাস্তি দিতে হবে।
সৈয়দ হায়দার আলী, সভাপতি,
মহাখালি যুব কল্যাণ সমিতি, মহাখালি, ঢাকা।
দেশের পোশাক কারখানার মালিকদের দূরদর্শিতার অভাবের কারণে পোশাক শিল্পে অগ্নিকাণ্ড অহরহ ঘটছে। এতে আগুনের লেলিহান শিখায় নির্বিচারে শ্রমিকরা প্রাণ হারাচ্ছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায় পোশাক কারখানায় অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, বালির বালতি এবং পর্যাপ্ত পানি রাখার ন্যূনতম সুবিধা পর্যন্ত নেই। কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের জীবন বাজির শেষ সুযোগটুকু গ্রহণ করে থাকে। পক্ষান্তরে শ্রমিকদের বাঁচার জন্য, আগুনের হাত থেকে কারখানা রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। ফলে আগুনে জীবন্ত শ্রমিকরা আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হচ্ছে। কয়লায় পরিণত হচ্ছে তাদের দেহ। এমন নির্মম মৃত্যু জাতি আশা করে না। অতএব রাষ্ট্রের সম্পদ এবং শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটাই নিয়ম হওয়া উচিত।
শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরু
কালিহাতি, টাঙ্গাইল।
তাজরীন গার্মেন্টসের আগুনের ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হয়েছে। এতে করে আমাদের দেশের এই সম্ভাবনাময় শিল্পটি ধ্বংসেরমুখে পদযাত্রা শুরু করলো। এ দেশের প্রায় আশিভাগ লোক পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত। যদি কলকারখানায় এভাবে আগুন লেগে প্রাণহানি ঘটে তাহলে বিশ্ববাজারে আমরা বড় বড় বায়ার হারাব। কারণ একদিকে যেমন শ্রমিক অসন্তোষ, তেমনি প্রাণেরও নিশ্চয়তা নেই। যেখানে প্রাণের নিশ্চয়তা নেই সেখানে বায়ারদের পণ্যের নিশ্চয়তা কোথায়? প্রতিবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সময় বলা হয়, এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে; কিন্তু বাস্তবে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমরা চাই আর যেন কোন তাজরীন পুড়ে ছাই হয়ে না যায়। কোন মা-বাবা, ভাই-বোন পুড়ে ছাই হয়ে না যায়। সব কলকারখানাতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং জরুরি বহির্গমন পথ সঠিক আছে কিনা তা প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দ্বারা পরীক্ষা করে ঐ কারখানার উত্পাদন শুরু করতে হবে।
মো. আলমগীর হোসেন মিয়াজী (রাকিব),
কচুয়া, চাঁদপুর।
তাজরীন পোশাক শিল্পের অগ্নিকাণ্ডে যারা আহত এবং নিহত হয়েছে তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এ রকম বিভত্স এবং কষ্টকর অভিজ্ঞতা যেনো আর না হয়। স্বজন হারানো মানুষগুলো আবার যেনো উঠে দাঁড়াতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে অতিদ্রুত বিভিন্ন দেশ রপ্তানি আদেশ বাতিল করছে বলে জানা যায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের মতো গরীব দেশের উপর এরকম বহিঃদেশের আচরণ কাম্য নয়। এ রকম হলে পঁচিশ থেকে ছাব্বিশ লাখ লোক বাঁচবে কিভাবে। এরাতো গার্মেন্টসের উপর সরাসরি জীবন নির্বাহ করে। সুতরাং বহির্দেশ দ্রুত রপ্তানি আদেশ বাতিল করায় আমরা এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা ভেবে দেখার আহবান জানাই। কারণ এখন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন হলো-ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যথাযথভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে যেসব পরিবারে উপার্জনক্ষম আর দ্বিতীয় মানুষ নেই; তাদের পণ্য পেনসনের মতো একটি ব্যবস্থা করলে এ অসহায় পরিবারগুলো বেঁচে যায়।
ওয়াহিদ মুরাদ, নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
এটা খুবই দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক ও শ্রমিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। যারা মালিক তারা এক একটি কারখানা তৈরি করে রাখে যেনো মৃত্যুর ফাঁদ। নিয়ম অনুযায়ী ২টি রাস্তা থাকার কথা কিন্তু একটি রাস্তা নিয়ে কিভাবে তা গড়ে তুলেছে। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবার জন্য অনুরোধ করছি।
তাজুল ইসলাম, মহসীন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
যেকোন দুর্ঘটনাই মর্মান্তিক। চক্রান্তকারীর কারণে হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যুতে শ্রমিকের পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। এদের কষ্ট কোনভাবেই পূরণ করা যায় না। এতে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি হয়। গার্মেন্টসের অগ্নিকাণ্ড এই প্রথম নয়; বহুবার ঘটেছে। কিন্তু তবুও মালিকপক্ষ সতর্কতার সঙ্গে গার্মেন্টসগুলো পরিচালনা করছেন না। দেশের দারিদ্র্যতা দূরীকরণে পোশাক শিল্প অর্থনৈতিক সচ্ছলতা দিচ্ছেই। মালিকের অবহেলায় বা দূরদর্শিতার অভাবে এ সকল অগ্নিকাণ্ড গার্মেন্টসে হচ্ছে। ফলে এর পরিণতি কি হবে মালিকগণ তা জানেন কি। অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই, প্রবেশদ্বার বা বাহির হবার দরজা প্রশস্ত নয়, এ সকল মালিকপক্ষের দৃষ্টিতে রাখা উচিত। সরকারও এ সকল বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে পোশাক শিল্পের অনুমোদন দিলে এত বড় দুর্ঘটনা এড়াতে নিশ্চয়ই পারবে।
আশা এলিজাবেথ গোমেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা।
পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের মাটি। ছাই হয়ে গেছে গার্মেন্টস শিল্পের শতাধিক মানুষ। এমন নারকীয় ও বীভত্স ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
মো. জসিমউদ্দিন, পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ।
আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস কারখানা আগুনে পুড়ে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়লো রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পখাত। তৈরি পোশাকের বড় ক্রেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে অর্ডার বাতিল করেছে ইউরোপ আমেরিকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তবে আমরা চাই দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি অন্যদিকে পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেয়া দরকার।
হোসনে আরা, এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা।
আশুলিয়া তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রহস্য যেন না থাকে। যেহেতু কোন শ্রমিক আগুন লাগাতে আসেনি। তারা এখানে চাকরি করতে এসেছিল। কাজ করে পয়সা পেয়ে সেটা দিয়ে সংসারের জীবন নির্বাহ করার জন্যই তারা থাকে। দোষীদের খুঁজে বের করে বিচার করতে হবে।
ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা।
