আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:০৭
আগামীদিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতির মূল উচ্ছেদ করতে হবে আগামীদিনের বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবতে হলে বর্তমানকে নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা দরকার। কেননা আজকের কাজ আগামীদিনের ফল, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতি লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, সারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি, শিক্ষানীতি, সংস্কৃতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সর্বক্ষেত্রে নানা ভাবে দুর্নীতি চলছে। এমনকি সুদ-ঘুষ, সরকারি অর্থ আত্মসাত্, অপচয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, খাজনা ও কাজ ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, খাদ্যে ভেজাল, ক্লাসে ভালো ভাবে না পড়িয়ে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং সেন্টারে পাঠদান। এছাড়াও বিভিন্নভাবে দুর্নীতি। বর্তমান সমাজে দুর্নীতির অবস্থান এমনই শক্তিশালী যে, দেশের সাধারণ মানুষ দুর্নীতির কাছে অসহায় হয়ে, দুর্নীতিকে ভাগ্য বলে মেনে নিয়েছে। এখন আপনারাই বলুন, দেশে যদি এভাবে দুর্নীতি হতে থাকে তবে আমরা আগামীদিনের বাংলাদেশকে কিভাবে ভাবতে পারি? তাই আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে সমাজের সর্বত্র থেকে দুর্নীতির মূল উচ্ছেদ করতে হবে। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে আইন প্রণয়ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে হবে। তাহলেই আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে উঠবে পৃথিবীর বুকে এক সুস্থ সুন্দর জাতি। আমাদের সকলের প্রত্যাশা। মাহমুদুল হাসান অনার্স ১ম বর্ষ, আমতলী, বরগুনা, রবিশাল। সোনার বাংলাদেশ গঠনে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে হবে সবচেয়ে দুঃখ লাগে যখন দেখি যে, একই জেলার একই আসনের এমপি বা মন্ত্রী সাহেবের নিজের এলাকার টয়লেটে যাওয়ার রাস্তাটাও যখন পাকা, অপ্রয়োজনীয় স্থানে যখন দেখি একাধিক পুল, যেখানে তার আসনের পাশের থানার মেইন রাস্তাগুলো যেন অর্ধখোঁড়া খাল। যখন দেখি তার নিজের আসনের অপ্রয়োজনীয় স্থানে বিদ্যুতের বাতি অথচ পাশের থানায় ছেলে-মেয়েদের কেরোসিনের বাতির নিচে পড়া-শোনা করতে। দুঃখ লাগে এই ভেবে যে, ’৭১-এর যুদ্ধে তো শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মনে ছিল একই আশা—আঞ্চলিক বৈষম্যহীন সোনার বাংলাদেশ। হয়েছে কী তা সম্ভব? হ্যাঁ, এটি আবার অসম্ভবেরও কিছু না। শুধু প্রয়োজন একটু সচেতন দৃষ্টি আর মানুষ্যত্বের জাগরণ। আশাকরি, আমার এবং আমাদের আশা পূরণে সবাই এক হয়ে কাজ করার জন্য আজই অঙ্গীকার বদ্ধ হবো। জুয়েল রানা আইন বিভাগ, ১ম বর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে অপার সম্ভাবনাময় সুন্দর দেশ বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এখানে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত— কক্সবাজার। আছে প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন সোমপুর বৌদ্ধ বিহার, মহাস্থানগড়, ময়নামতি এবং সম্প্রতি আবিষ্কৃত উয়ারি বটেশ্বর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কুয়াকাটা। আছে আহ্সান মঞ্জিল, কান্তজীর মন্দিরসহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যে এতো কিছুর পরও হতাশ হই যখন দেখি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের মেধাবী ছাত্রদের হাতে কলমের পরিবর্তে অস্ত্র। আধিপত্য বিস্তার ও টেন্ডারবাজির উদ্দেশ্যে দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয় সাধারণ মানুষ। তখনই অবাক হই। যখন দেখি ক্ষমতায় গিয়ে দেশ ও দশের উন্নয়ন না করে নিজেদের উন্নয়নে ব্যস্ত থাকে কোন কোন রাজনীতিবিদ। আমরা যদি সবাই মিলে মিশে কাজ করি। কেউ খারাপ কাজ করলে যেমন বাঁধা দেব ভাল কাজ করলে তেমনি সহযোগিতা করব। তবেই তো বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। পি.বি জয় বি.এম ও কৃষি কলেজ, জোড়দীঘি ঘাটাইল, টাঙ্গাইল। আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে দরিদ্রমুক্ত একটি দেশ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। আগামী প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ হবে দেশকে দুর্নীতি, দরিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু ইতিপূর্বে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বর্তমানে রানার্স আপ বা চ্যাম্পিয়ন নয়। কিন্তু দুর্নীতি দেশ থেকে মুছে যায়নি। যার কারণে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প আজ বাধাগ্রস্ত ও অনিশ্চয়তার পথে। অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। দেশে ক্রমেই মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শেয়ার বাজারে ধস এবং এনার্জি সমস্যা আগামীদিনের বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ দেশে যে কোন সময় ভূমিকম্প, উপকূলীয় অঞ্চলে সিডর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। অন্ধকারের পেছনে যেমন আলো থাকে, তেমনি সমস্যার পেছনে রয়েছে এ দেশে বিপুল সম্ভাবনা। আমাদের দেশে রয়েছে জনশক্তি। যাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে বিদেশে শ্রম খাটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পে রয়েছে চোখ ধাঁধানো সাফল্য। বিশ্বমানের জাহাজ এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। বিদেশে রফতানি হচ্ছে। যেকোন দেশের জন্য সমুদ্র হচ্ছে আশীর্বাদ। বাংলাদেশের সমুদ্রতলে প্রাকৃতিক সম্পদ ভরপুর। যেখানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উত্তোলন করা হবে প্রাকৃতিক সম্পদ। যার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি হবে। আগামী প্রজন্ম দেশকে ভালবাসবে এবং দেশকে নিয়ে যাবে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে। মো. হামিদুর রহমান (হারুন) বি,এস,সি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী, ঢাকা। আমরাও পারবো মডেল হতে আশা আছে বলেই মানুষ বাঁচে এবং মানুষ একটি রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান। আগামীর বাংলাদেশ কেমন দেখতে চাই? এ রকম প্রশ্নের উত্তর আমরা বলবো স্বাধীনতা অর্জন জাতি হিসেবে আমাদের স্বতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যতটুকু উন্নয়ন হওয়া দরকার তা হয়তো আমরা পারিনি বিভিন্ন কারণে। আমাদের নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা, রাজনৈতিক সুস্থ ধারা বজায় রাখতে না পারা, বারবার গণতন্ত্র ব্যাহত, সম্পদের অসম বণ্টন, এক শ্রেণীর বুর্জোয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তরে ব্যাপক দুর্নীতির অনুপ্রবেশ আমাদেরকে পিছিয়ে দিয়েছে। তবে সদ্য স্বাধীন হিসেবে অর্জনও কম নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় অন্তর্ভুক্তি, শান্তিমিশনে অংশগ্রহণ, বাংলাদেশীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য অর্জন, নারীর ক্ষমতায়ন,রফতানি রেমিটান্সসহ অর্থনৈতিক-সামাজিক পরিবর্তন আশা জাগায় সামনে যেতে পারবো আমরা। তবে এ কথা সত্য সমসাময়িক অন্যরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। শিক্ষার হার বৃদ্ধি, সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার, সামাজিক কুসংস্কার, লিঙ্গ-বৈষম্য, শহর-গ্রাম ইত্যাদি দূর করে উন্নয়নের ধারা যদি সর্বত্র বজায় রাখা যায়, রাজনীতিতে দেশপ্রেমের অকৃত্রিম, প্রয়োগ, দুর্নীতির মূল উত্পাটন এবং আমরাও পারি এই মনোভাবে যদি এগিয়ে যাই তাহলে আমরাও অন্যান্য দেশের মডেল হতে পারবো, কেননা, আমাদের অতীতে আছে ভাষা ও দেশের জন্য রক্তদানের গৌরবময় ইতিহাস। এস, ইলিয়াছ বাবর ব্যবস্থাপনা, বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন