নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার বা ভবন ও জননিরাপত্তা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৮
কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভাঙিয়া ১৫ জনের মৃত্যু হয়। একই দিনে আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং নিহত হন ১২৪ জন। এই দুই দুর্ঘটনায় জাতীয়ভাবে শোক দিবস পালন করা হয়। তবে আশুলিয়ার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে চট্টগ্রামের দুর্ঘটনাটি খুব একটা গুরুত্ব পায় নাই সেই সময়। এই ব্যাপারে বাড়ে নাই প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ ও জনসচেতনতাও। তাহার প্রমাণ হইল রাজধানীতে নির্মাণাধীন কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচে গড়িয়া উঠা অবৈধ দোকানপাট। এই সম্পর্কিত সচিত্র সংবাদটি ইত্তেফাকে প্রকাশিত হইয়াছে গত শুক্রবার। এইভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় এইসব অনিয়ম ঘটিয়া চলিলেও প্রায়শ ইহার বিরুদ্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। আবার যাহারা এইভাবে জীবিকান্বেষণের পথ বাছিয়া নিয়াছে তাহাদেরও যেন ডর-ভয় নাই। চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারের নিচে কাঁচাবাজার ছিল বলিয়া হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়া যায়। এই খবর জানার পরও আমাদের বোধোদয় হইতেছে না। দুর্ঘটনা হইতে আমরা কোন শিক্ষা গ্রহণ করিতেছি না বলিলেই চলে। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার, বহুতল ভবন বা যে কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিচে অস্থায়ী কাঁচাবাজার বা দোকানপাট চালানো অবৈধ ও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিয়মিত মাসোহারা না তুলিয়া ঐসব দোকানপাট তুলিয়া দিতে পুলিশকে কঠোর ভূমিকা পালন করিতে হইবে। জানা যায়, চট্টগ্রামের দুর্ঘটনার পর নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের দুই পাশে বেষ্টনি দেওয়ার চেষ্টা করা হইতেছে। এই ফ্লাইওভারটির ৪৫টি গার্ডার ঝুঁকিপূর্ণ। তন্মধ্যে ১১টি আছে অধিক ঝুঁকিতে। ঝুঁকির কারণ গার্ডারগুলি ঠিকমত বসানো হয় নাই। আবার এইগুলিতে কোন ক্রসগার্ডারও লাগানো হয় নাই। শুধু ফ্লাইওভারই নহে, ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরীতে নির্মাণাধীন বিভিন্ন বহুতল ভবনের নিচ দিয়া সাধারণ লোকজন ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করিতেছেন। এইভাবে ইট-পাথর পড়িয়া এই রাজধানীতে কয়েকজনের মৃত্যুও হইয়াছে। আদালতে মামলা করিয়া কেহ কেহ ক্ষতিপূরণ আদায় করিয়াছেন। এমতাবস্থায় ভবন মালিক বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনার কর্তৃপক্ষের উচিত এই ব্যাপারে সর্বপ্রকার নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পথচারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখিয়া বহুতল ভবনের চারিদিকে টিন, চটের জাল প্রভৃতি দ্বারা বেষ্টনির ব্যবস্থাও করিতেছেন কেহ কেহ। তবে এক্ষেত্রে সর্বসাধারণেরও সচেতনতার কোন বিকল্প নাই। উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিকে বিপজ্জনকভাবে রেললাইন পার হওয়ার ছবি ছাপা হইয়াছে। তাহাতে দেখা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে একজন তরুণ মোবাইলে কথা বলিতে বলিতে রেললাইন পার হইতেছে। এইভাবে রেললাইন দিয়া হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় অনেকে মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। সড়ক পার হইতে গিয়াও এমন অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার নজির রহিয়াছে। তাহাছাড়া, আমাদের দেশের অধিকাংশ রেললাইনের দুই পার্শ্ব জুড়িয়া গড়িয়া উঠিয়াছে বস্তি বা হাট-বাজার। এইসব স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ জানিবার পরও আমাদের কোন হুঁশ হইতেছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনপ্রতিনিধিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা আছেন। কিন্তু অবৈধ ও বিপজ্জনক স্থাপনা সরানোর ক্ষেত্রে কাহারও তেমন মাথাব্যথা নাই। যাহাদের উদ্যোগী হইয়া এইসব জনহিতকর কাজ কবিরার কথা, তাহারাই অনেক সময় অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সহিত সম্পৃক্ত থাকেন বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে। যাহা হউক, এই সকল ব্যাপারে আমাদের সকলকে সজাগ ও সচেতন হইতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, সাবধানের কোন মার নাই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন