জনগণের সরকার

শয়তানের কি এত উকিল দরকার

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৯
বিংশ শতকে কয়েকটা লাশের কতটুকুই বা নিউজ-আয়ু! তাও আবার শ্রমিকের লাশ! তাই ২৪ নভেম্বরে আশুলিয়ায় অভূতপূর্ব আগুনে শ্রমিক মৃত্যুর এতগুলো দিন পর এই উছিলায় কোনো কিছু লিখতেই ভারি বিড়ম্বনা হচ্ছিল বটে। কিন্তু অনেক ভেবেচিন্তেও মাথায় এই বিষয়ের গুরুত্ব লঘু করতে পারা গেল না একটুও। টিভি দেখতে বসে হরেদরে রিমোট টেপাটিপি করতে গিয়েই সংসদ অধিবেশনের দিকে চোখ গিয়েছিল। সুমি আক্তার নামক একজন আগুনদাতা যেরকম গুরুত্ব এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পরিবেশিত হলেন তাতে মনোযোগ না দিয়ে পারা গেল না। একজন সুমি আক্তার ম্যাজিকের মতো শ’দেড়েক লাশকে আড়াল করে ফেলতে পারলেন প্রায়। অন্তত তিনি সেভাবেই পরিবেশিত। ‘ডেভিলস এডভোকেট’ কথামালাটির অর্থ কোনোদিনই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। একে তো একদম পাশ্চাত্যীয় বাগধারা, তার মধ্যে বাইবেলীয় ঐতিহ্য গেঁথে আছে এর মধ্যে। সর্বোপরি হলিউডের আধিভৌতিক ছবিটবির কারণে অর্থটা একটা দূরবর্তী জিনিস হিসেবেই থেকে গেছে। তেমনভাবে নিজেদের চারপাশের বিষয় হিসেবে দেখা খুব সহজ হয়ে থাকেনি কখনো। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামের লোকজন অনায়াসে ‘তালগাছ আমার’ মার্কা যেসব শালিসের গল্প করেন, সেগুলো বজ্জাতির পক্ষের গোয়ার্তুমিই আসলে। তারা আরও একটা কথাও বলে থাকেন: ‘ইয়ে’ দিয়ে আল ঠেলা। ওরা যে ভাষায় বলেন তাতে খুব স্পষ্ট বাঙ্ময়ভাবে বোঝা যায়। কিন্তু নাগরিক পরিশোধিত মননে ওদের ভাষায় না বলে ‘ইয়ে’র জায়গায় ‘পশ্চাদ্দেশ’ বসিয়ে নিলেও চলে। এই ঠেলা কিংবা এই তালগাছ-হাসিল শয়তানের উকিল ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভবই না। বাংলাদেশে অহরহ গণমৃত্যু হয়। ঈদের সময় বাস, ট্রেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায়; সারা বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনায়; বহুতল ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে আছাড় খেয়ে এবং তেমন কোনো খবর না তৈরি করেই; বহুতল ভবন ভাঙতে গিয়ে তার নিচে চাপা পড়ে; বস্তিতে ধারাবাহিক ‘অগ্নিকাণ্ড’ হওয়াতে; গার্মেন্টস বা অন্য কোনো রাসায়নিক কারখানায় আগুন লেগে, ফ্লাইওভার ভেঙে চাপা পড়ে ইত্যাদি। এত অগণিত ও অনন্য সব উপায়ে মানুষ মারা যাবার অবারিত সুযোগ আছে যা কথাকাহিনীতে পড়লে অবিশ্বাস্য বানোয়াট নৃশংসতা মনে হতে পারত। এসব মৃত্যু জনমনে যেসব আছর ফেলে তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলতে পারে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে গণমৃত্যুর সারি সারি খবর আসতে থাকে এবং খুব অনায়াসেই সেগুলো পাবলিক-অনুভূতি তৈরি করে। ফলে অনায়াসেই মনে হতে পারে যে বিগত মৃত্যুগুলো তার নৃশংসতা এবং দায়িত্বহীনতা পাবলিক-মানসে বিস্মৃত হয়ে গেছে। কিন্তু সরকার এবং উদ্যোক্তাদের মুখ্য অভিব্যক্তিটি সবকিছুকে ম্লান করে দেয়। তারা প্রথমেই যেটা বোঝানোর চেষ্টা করে থাকেন তা হচ্ছে বাংলাদেশ একটি গরিব দেশ এবং ‘উন্নত’ বিশ্বের মতো এখানে আশা করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের ‘গরিবি’ এই কাণ্ডারিদের যাবতীয় কাণ্ডজ্ঞান-দায়দায়িত্বের রক্ষাকবচ হিসেবে আবির্ভাব হতে থাকে। তাদের জীবনে গরিবি যতই দুরস্ত হোক, বাংলাদেশের অন্তত মিডিয়াসেবী মানুষজন যেন কিছুতেই গরিবির চেয়ে বড় কোনো ভিলেন আবিষ্কার করে না ফেলে তার এন্তার চেষ্টা কাণ্ডারিগণের থাকে। সরকারের এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের। এসব উকিলগিরি জানা থাকা সত্ত্বেও হঠাত্ খুঁজে পাওয়া টিভি সম্প্রচারে জীবন্ত জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শুনে চমক লেগে গেল। তিনি জানালেন তিনি কিছুমাত্র আগে সিসিটিভি দেখে এসেছেন এবং তিনি নিজ চোখে দেখেছেন আরেকটি গার্মেন্টসে আগুন লাগানোর চেষ্টা করছেন একজন ‘শ্রমিক’। তিনি জেনে এসেছেন যে সেই আগুনদাতা ও তার সাথি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এবং তারা অপরাধ কবুল করেছেন যে ২০ হাজার টাকার ‘প্রলোভনে’ এই আগুন তারা দিতে গেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ চোখে দেখা সিসিটিভি ফুটেজের প্রতি তামাম বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধা অটুট আছে। কিংবা সদাসতর্ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি যাতে ঘটনা ঘটবার ন্যূনতম সময়ের মধ্যে অপরাধী ধরা পড়েছেন এবং সাক্ষ্য পর্যন্ত নেয়া হয়ে গেছে। বস্তুত এরকম সদাসতর্ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের বিচলিত মানুষকুল কামনা করেনও বটে। প্রসঙ্গ এখানে অন্যত্র। তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর দায়িত্বহীন শতাধিক লাশ জমে যাবার পর (প্রসঙ্গত ১১১ কিংবা ১২৪-এর এই সংখ্যা আশুলিয়া অঞ্চলের শ্রমিকগণ খুব বিশ্বাস করেন না) সংসদ যখন শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করবার সৌজন্যটুকু অন্তত দেখাতে যাচ্ছে সেই পরিস্থিতিতে সুমি আক্তারকে আবিষ্কারের বিবরণী ভীষণরকম বেখাপ্পা লেগেছে। ভয়ানক ওই দুর্ঘটনাটির দায় যদি সংশ্লিষ্ট লোকজন না নিতে চান তাহলে অবশ্য ‘আগুন লাগানো শ্রমিক’ আবিষ্কার খুবই জরুরি বিষয়। কী বুঝব আমরা? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুতর, মনে রাখার মতো একটি প্রশ্ন করেছেন। ‘এ কেমন কথা! যে ফ্যাক্টরি তাদের রুটি-রুজি দেয় সেখানে আগুন দিতে যাবে কেন?’ তিনি প্রশ্ন রেখেছেন সংসদেই। তার এই জিজ্ঞাসাটিকে অনুকূল পরিস্থিতিতে দ্ব্যর্থক হিসেবে পাঠ করা যায়। ধরা যাক তিনি সম্যক জ্ঞাত আছেন যে, বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষজন, নেহায়েত্ গতর খাটানো শ্রমিকবৃন্দ নিজেদের রুটি-রুজি আর দুর্বহ জীবন চালানোর দুরূহতা জানেন। ধরা যাক তিনি বোঝেন যে এই শ্রমিককুল সীমাহীন বৈষম্য নিয়ে ওয়াকিবহাল কিন্তু বাণিজ্য-লক্ষ্মীর তারাই বাহন। ধরা যাক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবগত যে, মজুরি-ভাতার আন্দোলন শ্রমিকরা করেন তাদের সেই দুর্বহ জীবনের ওজনটাকেই খানিক লাঘব করার জন্য, বিলাসিতার জন্য নয়। তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই জিজ্ঞাসাটি হতো সম্পদ ক্ষতিসাধনের দায় থেকে শ্রমিকদের শ্রেণীগতভাবে খালাস করে দেবার নিমিত্তে উচ্চারিত। তার এই জিজ্ঞাসাটি হতো শ্রমঘনিষ্ঠ জীবনের প্রতি রাষ্ট্রের ও সরকারের একটা মেটাফলিক শ্রদ্ধাপ্রদর্শন। কিন্তু আমরা তো পরিপ্রেক্ষিতটা লক্ষ্য করলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই জিজ্ঞাসাটিকে আসলে দ্ব্যর্থক পাঠ করবার কোনো সুযোগও তিনি রাখেননি। তিনি যে পরিপ্রেক্ষিতে, যে ভঙ্গিতে, যে স্থান ও কালে এই জিজ্ঞাসা উত্থাপন করেছেন তাতে জিজ্ঞাসাটি গভীরভাবে দোষারোপ করার কাজে নিয়োজিত। যে শ্রমিক তার জীবন দিলেন, নৈমিত্তিক দিয়ে আসছেন মুনাফার পাশাপাশি, তিনিই আবার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে গেলেন। এমন একটা সময় এই ঘটনাটি ঘটল যখন গার্মেন্টস শিল্পের মালিকপক্ষ খোদ বিজিএমইএ নির্বিচারে দায় এড়ানোর শতেক সুড়ঙ্গ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও জানালেন, ‘তারা যে বেতন-ভাতা চেয়েছে আমি তার থেকেও বেশি করার ব্যবস্থা করেছি।’ বটেই! শ্রমিকদের কী এমন কল্পনাশক্তি! নিজের জীবন ন্যূনতমভাবে যাপনের জন্য কতই বা তারা বেতন-ভাতা চান! বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দ নানান উদ্যোগ নিচ্ছেন শ্রমিক জীবনের নিরাপত্তার জন্য। অন্তত তাদের সেই উদ্যোগ নেবার খবরগুলো আমরা জানতে পারছি। অতীতের মৃত্যু না হলেও অন্তত ভবিষ্যতে গরিবের মৃত্যু এত সুলভ থাকবে না সেই নিশ্চয়তা থাকা খানিকটা স্বস্তির অবশ্যই। এই উদ্যোগের জন্য তারা সম্ভবত সাধুবাদ পেতে পারেন। মোটের উপর তারা চাচ্ছেনও সেটা। যেসব ঘটনামালার মধ্য দিয়ে এসব উদ্যোগ তারা নিচ্ছেন সেসব ঘটনা ঘটবার আগে এই উদ্যোগগুলো অধিকতর বিশ্বস্ত হতো। শিল্পপতি নেতৃবৃন্দ বিগত কয়েকদিন স্বপক্ষে যা যা বলছেন এবং যেভাবে বলছেন তাতে তাদের ক্ষুব্ধ এবং মরিয়া দুটোই মনে হচ্ছে। এই সংস্থাটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন মুনাফালোভীদের একটা আখড়া হিসেবে যেন আমরা না দেখি সে ব্যাপারে সংস্থাটির কর্ণধারগণ মরিয়া। আর তাদের ক্ষোভ তারা চেপে রাখেননি। মিডিয়ার উপর তারা বেজায় ক্ষুব্ধ। জানা গেছে পোশাক বিপণনকারী ওয়ালমার্ট কম্পানি পোশাক কেনার চুক্তিটি বাতিল করেছে এবং বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দ এই ‘ক্ষতি’র জন্য মিডিয়ার ‘বাড়াবাড়ি’কে সরাসরি দায়ী করেছেন। এসব বিষয় খুব দ্রুতগতিতে ঘটছে, আর তা ঘটছে একদম মিডিয়া অঙ্গনের মধ্যেই। ফলে বিজিএমইএর দ্রুতগতির সব উদ্যোগের প্রেক্ষাপট না বুঝবার মতো জায়গায় আমরা নেই। এই উষ্মা, এই ক্ষোভ তারা যে দেড়শ লাশ পড়ে যাবার সপ্তাহেও চেপে রাখতে পারেননি তাতেই আমরা শিল্পোদ্যোক্তাদের গড়পরতা ‘দায়িত্ববোধ’ বুঝে নিতে পারি। বিশেষ করে স্মরণ রাখা দরকার, মিডিয়া কাভারেজের গুরুত্ব তারা অন্য যেকোনো সময়ের থেকে ভাল বুঝতে পারছেন বলে মনে হয়। সেজন্য ঠিক এই মৌসুমেই তাদেরই আয়োজন করা মিডিয়া-ইভেন্টগুলোতে প্রকাশিত এসব ক্ষোভ খুব গভীর এক শ্রেণীবিদ্বেষের আলামত দেয়। লক্ষণীয়, বিজিএমইএর অফিসিয়াল নিরীক্ষায় তাজরীন গার্মেন্টস কিন্তু ‘কমপ্ল্যায়েন্ট’ ছিল। আশুলিয়া অঞ্চলে ঠিক কতগুলো গার্মেন্টস কারখানা আর তাতে কতজন শ্রমিক কাজ করেন তার সঠিক হিসেব আমার জানা নেই। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের গ্রামে অজস্র অভিবাসী শ্রমিক বসবাস করেন। প্রধানত নারী এসব শ্রমিকের জীবনে কর্মক্ষেত্র ছাড়াও বিস্তর সমস্যা ইতিমধ্যেই আছে। জাহাঙ্গীরনগরে চাকরি করি বিধায় এবং ইদানীং উত্তরায় নিবাস বলে আশুলিয়া আমার নৈমিত্তিক যাওয়া-আসার অঞ্চল। প্রতিদিনই বাসে উঠবার আগে গুঞ্জন চলে আশুলিয়ায় ‘গোলমাল’ আছে কিনা, বাস নিরাপদে যেতে পারবে কিনা। বাসযাত্রী শিক্ষকদের এই আগ্রহ নিজ নিজ জীবনের ও সফরের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য। সেটা নিশ্চয়ই অন্যায় নয়। কিন্তু যে সীমাহীন যন্ত্রণার মধ্যে শ্রমিকরা আবার রাজপথে এসেছেন, আবার দাবি-দাওয়া আদায়ে পথে নেমেছেন সে বিষয়ে কৌতূহলী মানুষজন আমার বাসযাত্রায় কমই পাই আমি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পত্র-পত্রিকায় যা আসছে তার থেকেও অনেক অশান্ত, অনেক সংক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। মাত্র কদিন আগেই এতগুলো মিত্র হারানোর বেদনা এত সহজে যাবার নয়। নানান রকম শোক আর নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হয়ে বিক্ষোভটা প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছরে শ্রমিক সংঘবদ্ধতা প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। মালিক ও রাষ্ট্রপক্ষ নানান পদ্ধতিতে ‘নীরব শ্রমিক’ যন্ত্র বানিয়ে সারতে পেরেছে। কেবল গার্মেন্টস শিল্পেই এর ব্যতিক্রম এখনও। ধারাবাহিক অসন্তোষ, সংঘবদ্ধতা এবং দাবি আদায়ের দৃঢ়তা গার্মেন্টস শ্রমিকরা দেখাতে পারছেন। তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করবার নাগরিক অধিকারও যেখানে খর্ব করে রাখা হয়েছে সেখানে এই দৃষ্টান্ত দুর্দান্ত। এসব অভিব্যক্তি সবসময়ই তারা প্রাণের বিনিময়ে করেছেন। বিগত দশ বছরে বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও মালিকপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ও আহত শ্রমিকদের তালিকাটা দীর্ঘ হবে। গুম-খুনের কারণে ঠিকমতো তৈরি করাও মুশকিল হবে। ইপিজেড-এর সূচনালগ্ন থেকে এই ধরনের নির্যাতন শুনেও প্রতিকার হয়নি। কিন্তু কোনো ধরনের ভীতি দাবি আদায়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের পিছপা করেনি। শ্রমিকদের এই রাজনৈতিক অভিব্যক্তি দারুণ এক নিরাপত্তাহীনতার্ দলিল। নিম্নবেতন-মজুরি-ভাতা, নিরাপত্তাহীন কর্ম-পরিবেশই কেবল নয়, আছে কাজ হারানোর আশঙ্কা। সরকার ও রাষ্ট্রের দায়সারা ভূমিকার কারণে শ্রমিকদের সপক্ষে শর্ত খুব সামান্য আছে বা একেবারেই নেই। জনপ্রিয় ধারণা হলো শ্রমিকরা ধর্মঘট করে কারখানা বন্ধ রাখেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো গার্মেন্টস-এর ক্ষেত্রে কারখানা বন্ধ রেখে কিংবা ঠিকাদারদের যোগান দেয়া নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়ে শ্রমিকদের শায়েস্তা করার পদ্ধতিও চালু আছে। বিগত শ্রমিক-মালিক বিরোধের সময় এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে খোদ আশুলিয়া অঞ্চলেই। আলাদা লোক নিয়োগ দিয়ে তালিকা বানানো হয়েছে আন্দোলনে অংশ নেয়া বা ‘সহমর্মী’ শ্রমিকদের ‘শায়েস্তা’ করবার জন্য। শ্রমিকরা নিজেদের জীবন দিয়ে এগুলো জানেন। এই অবস্থাটা তারা বদলাতে চান। চাকরিটা থেকে ন্যূনতম জীবনধারণের উপকরণ চান, নিরাপত্তাহীনতায় মরতে চান না, হয়রানি-হেনস্তার অবসান চান। যদি মিডিয়া সজাগ থাকে, শ্রমিকদের বিক্ষোভ আর দ্রোহের খবর আমরা পাব। যদি মিডিয়ার এজেন্ডা বদল হয়, আমরা আর পাব না। কিন্তু এত সাহস আর মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণশক্তি দেখাবার পরও গার্মেন্টস শ্রমিকদের পক্ষে দাঁড়াবার কিছু কণ্ঠস্বরও কি তৈরি হবে না? এমন কণ্ঠস্বর যেগুলো ‘বৈদেশিক মুদ্রা’র গর্ববাচক কিছু সাহিত্যচর্চার বাইরে রাষ্ট্র ও মালিককে বাধ্য করবে কিছু পদক্ষেপ নিতে। আমরা সবাই নিশ্চয়ই ‘ডেভিলস এডভোকেট’ হবো না। নিশ্চয়ই না! লেখক :জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন