কথা কম, কাজ অনেক বাকি

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১১
বিগত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহার জনগণের সেই চাহিদাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিল । ম্যানেজমেন্টের সেই কেতাবে যা বলা হয়েছে সেটা এক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক । what type of innovation are possible ? What growth options should be considered? এটা এক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক এবং যথার্থ । ইনোভেশন শব্দের অর্থ যদি হয় সৃষ্টিশীল নতুন ধারা তাহলে রাষ্ট্রপরিচালনায় তা খুবই জরুরি । একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের মূলত: রাস্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নেবার জন্য লড়াই করে এবং সেটাই স্বাভাবিক । এখানেই মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য । বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একটি অসাধারণ কাজ করেছে ‘কর্মসূচি ভিত্তিক’ নির্বাচনী ইস্তেহার দিয়ে এবং নির্বাচনী ইস্তেহার যে এত জনপ্রিয় হতে পারে তা কেউ টের পাননি । এখানে ‘বেঞ্চমাকিং’ পদ্ধতিতে কর্মসূচিগুলো উপস্থাপিত হয়েছে । ‘আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার, কর্মসূচি ও ঘোষণা’ শিরোনামে একটি অধ্যায়ে বলা হয়েছে ‘সংকটের আবর্তে নিমজ্জমান অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করে একটি উন্নত সমৃদ্ধ সুখী সুন্দর জীবন গড়ে তোলাই হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একমাত্র ব্রত ’। আওয়ামী লীগ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাস করে। অতীতে ঔপনিবেশিক শাসনের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বিশ্ব-অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তৃতীয় বিশ্বেও দেশগুলোর আর একটি বৈশিষ্ট্যও খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়ে থাকে । এই সংগ্রামে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে । কিন্তু ২০১২ সালের আওয়ামী লীগ কতটুকু সেই সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত রেখেছে সেই প্রশ্ন মাঝে মাঝে উঁকি দেয় । আমরা অনেকেই বলে থাকি রাষ্ট্রপরিচালনায় বেশি সুযোগ পায়নি । এটা সত্য । কিন্তু যতটুকু সুয়োগ পেয়েছে তার কতটুকু কাজে লাগাতে পেরেছে । আওয়ামী লীগ সুস্টষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছিল এবং মানুষকে তা জানিয়েছিল । সেখানে বলা হয়েছিল, একটি প্রকৃত অংশীদারিত্বমূলক সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে নিশ্চিত হবে সামাজিক ন্যায়বিচার, নারীর অধিকার ও সুযোগের সমতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সুশাসন, দূষণমুক্ত পরিবেশ । সেই কারণে এত বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও মানুষ উজাড় করে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে । যেটা আগেই আলোকপাত করেছিলাম এখানেই কেতাবী সেই ধারার Where in the value chain should we focus to maximize value creation? বাস্তবায়ন করা গিয়েছিল। অর্থাত্ আওয়ামী লীগ যথাযথভাবে তা প্রয়োগ করতে পেরেছিল । আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী লয়েড ওয়ার্নারের ছয়টি সামাজিক শ্রেণীর কথা আমরা জানি। যদি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা কাজেকর্মে, সততার পরিপূর্ণতার ছাপ স্পষ্ট হয় । নিজের দলের কর্মীদের কাছে সত্, দক্ষ, সৃজনশীল হিসেবে উপস্থাপিত হন তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । নেতারা যদি নিজেদের কার্যকলাপ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয় এবং বিপণনে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারঙ্গম হয় তাহলে খুব অল্প সময়ে মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠবেন । কর্মী সমর্থকদের ভিতরে একটা আর্দশিক দ্যোতনা কাজ করবে । বঙ্গবন্ধু বলতেন, আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি চাই । আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই বিষয়টা দিন দিন যেন হারিয়ে যাচ্ছে । এখানে যে সমালোচনা হয় তা ব্যক্তিবিদ্বেষজাত । আওয়ামী লীগাররা নিজেদের ভিতরে ব্যক্তিস্বার্থে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে; তা প্রতিপক্ষের হাতে অস্ত্র তুলে দেবার শামিল হয় । কিন্তু এখানে আত্মসমালোচনা হয় না । অধ্যাপক রেহমান সোবহানের একটা গ্রন্থের নাম ‘আমার সমালোচক আমার বন্ধু ’ । হিসেব করলে স্পষ্ট হয় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যতবার বিপদে পড়েছে তা দলের সদস্যদের দ্বারা হয়েছে । আওয়ামী লীগের সর্ব্বোচ নীতি নির্ধারণী সভার প্রায় সকল বিষয় হুবহু বাইরে চলে আসে । সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে না পারলে প্রতিপক্ষ সুযোগ পেয়ে যায় । লেখার শুরুতে যে বিষয়ে আলোকপাত করেছিলাম, How do we handle multiple constituents with potentially conflicting outcomes? অর্থাত্ নানারকম পরস্পর বিরোধী বিষয়গুলো কিভাবে মোকাবেলা করছেন । এভাবেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে । আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে মনে রাখতে হবে কথা কম বলে কাজ অনেক বেশি করতে হবে।  লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন