আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১১
দেশকে নতুন করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবার ক্ষমতা আমাদের তরুণ প্রজন্মের আছে রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন আমাদের উন্নতির ক্রমবিকাশকে কিছুটা ঢেকে রেখেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, এই অস্থিরতায় দেশের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও যে আমাদের দেশের সামগ্রিক উন্নতি ধীরে ধীরে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু মিথ্যে নয়। হয়ত প্রতিদিন সংবাদপত্রের বেদনার হাহাকার বাণী দেখতে দেখতে আমরা আশাহত হয়ে পড়ি;দেশ নিয়ে এক মহাচিন্তায় মগ্ন হয়ে যাই। দুই দলের সাংঘর্ষিক বক্তব্য দেখে আমরা পরবর্তী দিনের চিত্র দেখার অপেক্ষায় থাকি; অপহরণ কিংবা গুম, হত্যার খবর দেখে নিজের জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করি, বোদ্ধাদের কলামে হতাশার বাণী আমাদের উজ্জীবিত না করে যেন আরো হতাশ করে দেয়। পুরো সংবাদপত্র জুড়ে যদি দুটি সুখের খবরও চোখে পড়ে সেগুলোও যেন হতাশার ঘোরে ঢাকা পড়ে যায়, আমাদের মোটেও উজ্জীবিত করে না। নতুনভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয় না। চেষ্টা থেমে নেই, থেমে নেই অদম্য তরুণদের বিশ্বজয়ে এগিয়ে যাওয়া, যারা সত্যিকারে দেশ নিয়ে ভাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে চলে, কোন প্রকার অস্থিরতা তাদের চেষ্টায় বাধা হতে পারে না। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান এই তরুণরাই ঘটাবে। তাদের সাফল্যের জোয়ারে চাপা পড়বে আমাদের রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র। আমাদের তরুণরা জেগে উঠেছে, মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তবু তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হূদয়ে লালন করছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তারা আজ সোচ্চার, দুর্নীতি আর দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াতে শিখেছে। তারুণ্যের চোখে আজ নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি, সকল কালিমা মোচন করে এই দেশকে নতুন করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবার ক্ষমতা আমাদের তরুণ প্রজন্মের আছে। শুধু প্রয়োজন কেবল তাদের সদিচ্ছার। আমাদের অধিকাংশ তরুণের ভাবনায় এখন দেশ গড়ার অঙ্গীকার, এই সংখ্যাটা যত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে তত দ্রুত বদলে যাবে দেশ, সাফল্যের জোয়ারে আনন্দের সংবাদে পরিপূর্ণ থাকবে সংবাদপত্রের প্রতিটি পাতা মুছে যাবে সংবাদপত্রের পাতা থেকে দেশ নিয়ে বোদ্ধাদের হতাশার কলাম, আশি বছরের বৃদ্ধের হতাশার অভিব্যক্তি-‘মুক্তিযুদ্ধ কি তাহলে বৃথাই গেল?’ আর শুনতে হবে না। তারুণ্যের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে একদিন নিশ্চয়ই আমাদের অধরা অস্কার আর ক্রীড়াঙ্গনের বিশ্বকাপও ধরা দিবেই। সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতির বাঁধনকে আরো দৃঢ় ও মজবুত করে তুলবে এই তরুণরাই। একদিন আমাদের সব দুঃখ ঢাকা পড়ে যাবে। ধীরে ধীরে সব অজেয়কে জয় করবে আমাদের তরুণরা, যেমন করে এই তরুণদের সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি ৫২,৭১-এ। খুব বেশি ভুল হবে না কারণ আমাদের আছে এক ঝাঁক তরুণ আর প্রেরণার শক্ত ভিত গর্বের মুক্তিযুদ্ধ। মো. জাহিদুল হাসান (রাশেদ) শিক্ষার্থী, ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ,অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী, ঢাকা। নেতৃত্ব ও একজন সত্ নেতার গুণাবলী পারে আগামীর দেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব হলো একটি বিশেষ ধরনের ভূমিকা ও গুণাবলীর সমষ্টি। এটি প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল নানা সমস্যা, জটিলতায় পরিপূর্ণ। তাই দেশের স্বার্থ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারে না। এ জন্য প্রয়োজন সফল নেতৃত্বের। নেতৃত্ব হলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করার কাজ। নেতৃত্বের মূল কথা হলো- যে সব বিরল গুণের সমন্বয়ে একজন নেতার সৃষ্টি হয় আর সেটাকেই বলা হয় নেতৃত্ব। সফল নেতৃত্ব দ্বারা প্রত্যেকটি দেশের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। সত্যিকার অর্থে এই নেতৃত্বের সাফল্য নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের, সত্ গুণাবলীর উপর। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো সঠিক নেতৃত্বের। একজন নেতাকে সঠিক নেতৃত্বে গুণাবলী অর্জন করতে তার মাঝে থাকতে হবে ব্যক্তিত্ববোধ, দেশের ও দলের প্রতি দায়িত্ববোধ, ধৈর্যশীলতা, নমনীয়তা, চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা, মানসিক পরিপক্বতা, অন্যকে বুঝানোর ক্ষমতা, সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা, অনুসন্ধানী মন ইত্যাদি। অর্থাত্ দক্ষ নেতৃত্বের বিকাশ ও একজন সত্ নেতাই পারে আগামীর দেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। নাজমা আক্তার এম.এ. (শেষ বর্ষ), ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, গাজীপুর। আগামী দিনের বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পন্ন, প্রযুক্তি নির্ভর দেশ হিসেবে দেখতে চাই বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ। স্বাধীনতার চার দশক পেরিয়ে গেলেও আমরা পাইনি প্রকৃত স্বাধীনতা, পারিনি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির অর্থনৈতিক শোষণ, সীমান্ত হত্যা দেশের স্বাধীন মানচিত্রকে করেছে ক্ষত-বিক্ষত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও অন্তর্দ্বন্দ্ব্ব দেশের গণতন্ত্রকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি দেশের সার্বভৌমত্বকে ফেলেছে হুমকির মুখে। আমরা দেশের এ নামসর্বস্ব গণতন্ত্র থেকে মুক্তি পেতে চাই। আমরা আগামীতে এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে থাকবে না রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা, অস্থিরতা, শিক্ষাঙ্গনে থাকবে না সন্ত্রাসী রাজত্ব, কলহ-মারামারি, দলীয়করণ, দুর্নীতির মহোত্সব, থাকবে না লেজুড়বৃত্তিক নোংরা রাজনীতি। আমরা আগামীর বাংলাদেশকে দেখতে চাই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল, সেখানে থাকবে না দুর্নীতি, সুদ-ঘুষ, শেয়ার বাজার লুটতরাজ, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, সেখানে থাকবে না ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের অভিশাপ। আগামীর বাংলাদেশকে দেখতে চাই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনমুক্ত প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে। মোহাম্মাদ ইলিয়াছ হোসাইন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ (২য় বর্ষ), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। আগামীদিনে বাংলাদেশ হবে সরকারি দল বিরোধী দলের সুষ্ঠু রাজনীতির এবং হিংসামুক্ত পরিবেশ গত শনিবার দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় পড়লাম যে, হোয়াইট হাউসে একত্রে বসে মধ্যাহ্নভোজ করলেন ওবামা আর রমনি। ক’দিন আগেও এদের মধ্যে ছিল এক ধরনের যুদ্ধ। কিন্তু আজ কি দেখলাম। কারণ তারা দেশকে ভালবাসে। দল এদের কাছে বড় নয় দেশ বড়। আর আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা জনগণের উন্নয়নের দোহাই দিতে দিতে চলে যায় পাঁচটি বছর। যেখানে রাজনীতির সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে না। উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়। একটি দেশের অর্থনীতি উন্নয়ন নির্ভর করে দেশের রাজনীতির পরিবেশের উপর। আমরা যখন আফ্রিকার কয়েকটি দেশের দিকে তাকাব তখন দেখব যে, এখানে শুধু মারামারি, রাহাজানি, খুন, ধর্ষণ। কারণ সেখানে সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ নেই বিধায় এ সমস্যা। তাই আমাদের দেশ অপার সম্ভাবনাময়। এই দেশের দিকে তাকালে মনে হয় চারদিকে অদৃশ্যভাবে লুকিয়ে আছে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত্। কিন্তু আমরা আজ অন্ধের নেয় তাকিয়ে আছি। নেই কোন রাজনীতি মুক্ত পরিবেশ শুধু আছে হিংসা। এই হিংসার কারণে আজ দলীয় রাজনীতির সাথে যার যার পেট নীতি নিয়ে আজ মত্ত। কারণ ভালবাসা বলতে কিছু নেই। তাই আসুন আগামীদিনে বাংলাদেশ রচনা করি একটি সুন্দর রাজনীতির পরিবেশের মাধ্যমে। যেখানে থাকবে না কোন হিংসা-বিদ্বেষ, রাহাজানি, খুন, ধর্ষণ, মারামারি। জনগণের দোহাই দিয়ে নয় কর্মে। তাহলে সত্যিকারের বাংলাদেশ আমরা রচনা করতে পারবো। মো. মাসুম চৌধুরী নবীনগর সরকারি কলেজ বি.এ (তিতুমীর কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়াধীন এম.এ)|

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন