বিজয়ের এই ধারা সমুন্নত রাখিতে হইবে

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৩৪
ক্রিকেট-দুনিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দাপটের সাথে পরপর দুই ম্যাচ জিতিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসকে ১৯৯ রানে থামাইয়া দিয়া ১০ ওভার বাকি থাকিতেই ৭ উইকেটের স্মরণীয় জয় অর্জন করিয়াছিল বাংলাদেশ দল। গত রবিবারের দ্বিতীয় জয়টি, সকল বিচারেই, আরও বিশাল, আরও উজ্জ্বল। প্রথম জয়ে বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য লইয়া কাহারো মনে কোনো প্রকার সংশয় থাকিলে তাহাকে ধুইয়া-মুছিয়া দিয়াছে এই জয়। এককথায় অর্জন অনেক। এইবার আগে ব্যাট করিয়া ২৯২ রানের সম্মানজনক টার্গেট ছুঁড়িয়া দিয়াছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ইহার পর ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলস্-এর মতো তারকাসমৃদ্ধ দলটিকে ৩১ দশমিক ১ ওভারে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট করিয়া বাংলাদেশ দল শুধু যে আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো জয় অর্জন করিয়াছে তাহাই নহে, একই সাথে চিনাইয়া দিয়াছে নিজের জাতও। জয়ের ব্যবধান ১৬০ রান। অথচ ইতোপূর্বে বাংলাদেশ যে ২৬৩টি ওয়ানডে খেলিয়াছে, তন্মধ্যে ৫৩টিতেই এই পরিমাণ রানই সংগ্রহ করিতে পারে নাই। তবে বাংলাদেশ দল যে দ্রুত বদলাইয়া যাইতেছে— ইহাই তাহার একমাত্র দৃষ্টান্ত নহে। বাংলাদেশ ক্রিকেট যে প্রকৃত অর্থেই একটি সুসংবদ্ধ দল হিসাবে গড়িয়া উঠিতেছে সদ্যসমাপ্ত ম্যাচ-দুইটিতেই তাহার বেশকিছু উদাহরণ রহিয়াছে। লক্ষণীয় যে, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবকে ছাড়াই বাংলাদেশ এই দুইটি ম্যাচ জিতিয়াছে। আর যাহারা এই জয়ের মূল নায়ক— প্রথম ম্যাচের ম্যান অব দি ম্যাচ সোহাগ গাজী এবং দ্বিতীয় ম্যাচের ম্যান অব দি ম্যাচ এনামুল হক— তাহারা দুইজনেই তরুণ। দলে নবাগত। এনামুল তাহার অভিষেক ম্যাচে ৪১ করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১২০ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলিয়া দলকে জয়ের ভিত্তি গড়িয়া দিয়াছিলেন। পূর্ববর্তী দুইটি টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত হইলেও সেইখানেও প্রতিভার দ্যুতি ছড়াইয়াছিলেন দুই অভিষিক্ত তরুণ সোহাগ গাজী ও আবুল হাসান। প্রথম জন তাহার অভিষেক টেস্ট ম্যাচে শিকার করিয়াছিলেন ৯ উইকেট এবং দ্বিতীয়জন অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরির পাশাপাশি অষ্টম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করিয়াছিলেন। তবে এই তরুণদেরকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করিয়া দেখিবার কোনো সুযোগ নাই। কারণ বর্তমান বাংলাদেশ দলটির নেতৃত্বও তরুণদেরই হাতে। অভিজ্ঞতার বিচারে যাহারা কিছুটা আগাইয়া আছেন তাহারাও মূলত এই তারুণ্যেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারুণ্যের এই শক্তি ও সংহতিই যে বাংলাদেশ দলের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি তাহা নিঃসংশয়ে বলা চলে। অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা যে বাংলাদেশ দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করিয়াছেন তাহা খুব বেশিদিন আগের কথা নহে। এমনকী এ দেশের ক্রিকেটপাগল মানুষও বুকভরা হতাশা লইয়া দিনের পর দিন ক্রিকেটারদের উপর্যুপরি ব্যর্থতার মহড়া দেখিয়াছে। সেই ব্যর্থতার চক্র হইতে বাংলাদেশ যে বাহির হইয়া আসিয়াছে গত এক বত্সরের পরিসংখ্যানেও তাহার সুস্পষ্ট প্রমাণ রহিয়াছে। এই সময়ে ওয়ান ডে ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ। তন্মধ্যে এশিয়া কাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারাইয়া ফাইনালে উঠিয়াছিল বাংলাদেশ। মাত্র ২ রানে পাকিস্তানের কাছে হারিয়া চ্যাম্পিয়নের শিরোপা গলায় পরিতে না পারিলেও দলটি ক্রিকেটবোদ্ধাদের হূদয় জয় করিতে সক্ষম হইয়াছিল। আমরা আশা করি, চলমান সিরিজটি জিতিয়া বাংলাদেশ আবারও তাহার সামর্থ্যের স্বাক্ষর রাখিবে। সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হইল, সাফল্যের এই ধারা অবশ্যই সমুন্নত রাখিতে হইবে। বিজয়ের এই মাসে দেশবাসীকে দুই দুইটি স্মরণীয় জয় উপহার দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন